Hasan Rashid

নেতাকর্মী ও দলকে সুসংগঠিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন হাসান রশীদ

জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার আলোকিত ঢাকা: সেই ছোট বেলায় ক্লাস ওয়ান বা ক্লাস টু তে পড়ি সঠিক মনে নেই। বাড়ির পাশ দিয়ে হাইস্কুলের একদল ছাত্র মিছিল করে করে যাচ্ছে আর শ্লোগান দিচ্ছে “বিপ্লব বিপ্লব খাল কাটার বিপ্লব”। ওনাদের পিছনে পিছনে গেলাম আমাদের বাড়ির পাশেই ডাকাতিয়া নদী। সেখানে গিয়ে দেখি হাজার হাজার মানুষ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আসবেন ছোট সময়ই ভাবছিলাম এই গাঁওগেরামে নদীর ধারে জলাশয়ে খেতখামারে কেনো আসবেন প্রেসিডেন্ট? অনেক গুলো সেচের মেশিন নদীর পানি সেচতেছে। ছোট মানুষ এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করছিলাম। কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখি একটা হেলিকপ্টার এসে নামলো শত শত পুলিশ আর্মির লোক হেলিকপ্টার থেকে নেমে এলেন জনতার প্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উনি হাটছেন অন্যরা পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছেন।মাইকে কিছু বললেন এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে নেমে পড়লেন ডাকাতিয়া নদী তে অনেকক্ষন জনতার সাথে নিজ হাতে খাল কাটলেন শুধু এটুকুন মনে আছে যে উনি বলেছিলে আগামীতে আপনাদের ধান(ফসল) আর পানির অভাবে নষ্ট হবে না। গোলাভরা ধান পাবেন আগামী তে উনি চলে গেলেন, কিছুক্ষণ থেকে বাড়ি ফিরে আসলাম বাড়ি ফিরে এসে অনেককে বলতে শুনলাম জিয়া খাল কেটে কুমির আনছে।

সেই বছর আর ঐ নদীতে আর নামতাম না কুমিরের ভয়ে কিন্তু অবাক বিস্ময়ে দেখলাম সত্যি সত্যি সেই বছর কৃষক এর ক্ষেতে প্রচুর ইরি ধান হলো। সবার মুখে হাসি পরে অবশ্য জেনেছি কুমির আসেনি আসছে কৃষক এর খেতে গোলাভরা ধান। সেই ছোট বেলায় মনে দাগ কাটলো। কিছুদিন পর শুনেছি জিয়াউর রহমান কে চট্টগ্রামে হত্যা করা হয়েছে। কৃষক কিষাণীর সেই কি কান্না। নিজের ও খুব খারাপ লেগেছে। নিজের অজান্তেই কেঁদেছি অনেক তার কিছুদিন পরে দেখলাম দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে বিচারপতি আবদুস সাত্তার জিয়াউর রহমানের ধানের শীষ নিয়ে এবং ডঃকামাল নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। তখন কিছুটা বড় হয়েছি। নির্বাচন এর সময় একদিন আমাদের গুনবতী বাজারে গেলাম অনেক পোস্টার বেনার দেখলাম। তখন এখনকার মতো পোস্টার বেনার ছিলোনা। খুব মনে আছে এক জায়গায় একটা সুতলি টানিয়ে সাত্তার সাহেবের ধানের শীষের অনেক গুলো পোস্টার টানানো আছে এবং পাশে কিছু শুকনো রুটি টানিয় রেখেছে এবং একটা কাগজে লিখে রেখেছে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ ভুলি নাই ভুলবো না। বাবাকে এর অর্থ জিজ্ঞাসা করলাম বাবা যা বলেছিলেন তা এখানে ব্যাখ্যা নাই বা করলাম। নির্বাচন এ বিচারপতি সাত্তার বিপুল ভোটে পাস করলেন।

কিছু দিন পর শুনলাম জেনারেল এরশাদ বন্দুক এর নল দেখিয়ে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। খুব খারাপ লাগলো। কেটে গেলো কয়েক বছর।সেই থেকে মনেপ্রাণে জিয়াউর রহমান ও তার দল কে ভালোবাসতে লাগলাম।। প্রাইমারী স্কুল পাস দিয়ে হাইস্কুলের ছাত্র হলাম কয়েক বছর পর আমার জীবনে ঘটে গেলো একটা এক আনন্দের ঘটনা আমি গুনবতী হাইস্কুল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচীত হলাম।খুশির আর আনন্দের সীমা থাকলো না পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রদের ছাত্রদলের পতাকা তলে ভিড়াতে লাগলাম। অনেক ছাত্র ততদিনে ছাত্রদল করা শুরু করলো।

আমি হাইস্কুল পাস দিয়ে গুনবতী ডিগ্রী কলেজ এ এডমিশন নিলাম কিছু দিন পর কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের সিনিঃ সহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হলাম, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুংগে। দিনরাত্রি দলের কাজ করছি।এর পর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে করে ডিগ্রি তে ভর্তি হলাম। কয়েক দিনের মধ্যে আমি গুনবতী ইউনিয়ন ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলাম।পরবর্তী সম্মেলনে আমি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিঃসভাপতি হলাম। এর মাঝে ক্ষমতায় আসলো আওয়ামী লীগ আমাদের ছাত্রদলের সভাপতি ছাত্রলীগে যোগ দেয়ায় আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলাম।

কিছুদিন পর সম্মেলন হলো আমি গুনবতী ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি নির্বাচিত হলাম। এর মাঝে আওয়ামী লীগের মামলা হামলা, শিবির জামাত এর হামলা আমাদের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাখ্যায় গেলাম না। পরবর্তী সম্মেলন হলো আমি আর দায়িত্ব নিলাম না ছোট ভাই দের দায়িত্ব দিয়ে। জীবন জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমালাম। প্রবাসে থেকেও প্রিয় দল কে ভুলে থাকতে পারিনি পারছি না।প্রতিনিয়তই নীজ এলাকার দলের খোঁজ খবর নিয়েছি নিচ্ছি অনেক কষ্টের উপার্জিত অর্থ দলের নেতাকর্মী ও দলকে সুসংগঠিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি এবং তাই করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য বিএনপি তিন তিন বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলো আমাদের চৌদ্দগ্রাম বিএনপি কখনো ক্ষমতার মুখ দেখেনি। কখনো কাজী জাফর কখনো জামাতকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে আমাদের আসন। ফলে আমরা চৌদ্দগ্রাম এর বিএনপি নেতাকর্মীরা কখনো ক্ষমতার মুখ দেখিনি। উল্টো বিরোধী দলের চাইতেও আমাদের নেতাকর্মীদের খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত নিষ্পেষিত উপেক্ষিত বঞ্চিতই রয়ে গেলো। অথচ এই চৌদ্দগ্রাম তথা গুনবতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিন তিন বার পদদুলি দিয়েছেন!শুধুমাত্র সঠিক নেতৃত্ব এবং যোগ্য নেতার অভাবে আমাদের নিগ্রিহিত নেতাকর্মীরা নিগ্রিহিতই রয়ে গেলো! কারণ যোগ্য নেতার অভাব।

বর্তমানে আমরা একজন সত্যিকার খাঁটি নেতাকর্মী ও সমর্থক বান্ধব নেতা পেয়েছি যিনি ইতিমধ্যে দুই দুইবার উপজেলা নির্বাচন করেছেন। দুইবার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এর দায়িত্ব পালন করছেন। একটি পৌরসভার সহ ১৩ টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এবং সবাইকে একসাথে সংজ্ঞবদ্ধ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সকল সমস্যা উনার নিজের সমস্যা মনের করে সামনে থেকেই দেখাশোনা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় উনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রবাসীদের ও সুসংগঠিত করেছেন আমাদের সবার প্রিয় জননেতা জনাব কামরুল হুদা এবং আমি ও আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চৌদ্দগ্রাম জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরাম গঠন করেছি যার সদস্য সংখ্যা ২১০০ শত এর অধিক এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমাকে সে ফোরামের আহবায়ক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় তারপর থেকে আমরা প্রবাসীরা ফোরামের মাধ্যমে দলের সকল করমসুচী পালন করার লক্ষ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। সেই সহযোগিতা উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন এবং ওয়াড পর্যায়েও করছি। সর্বশেষ আসছে চৌদ্দগ্রাম বিএনপির সম্মেলনের উপলক্ষে আমরা প্রবাসী ফোরাম থেকে নিজেদের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে সাধ্যমতো দলের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। যাতে করে চৌদ্দগ্রামের ইতিহাসে জাকজমকপূর্ণ একটি সম্মেলন হয়। আমরা আমাদের এই সহায়তা অব্যাহত রাখবো যতদিননা চৌদ্দগ্রাম বিএনপি একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।

প্রিয় চৌদ্দগ্রাম এর বিএনপির নেতাকর্মী ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমাদের এই সহযোগিতার জন্যে আমাদের কোনো ব্যাক্তি গত চাওয়া-পাওয়া নেই, আমারা চাই চৌদ্দগ্রাম বিএনপি সুসংগঠিত হোক চৌদ্দগ্রাম থেকে বিএনপি তথা ধানের শীষের এম,পি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক। তাই আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দলের এই ক্রান্তিকালে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জনপ্রিয় জননেতা জনাব কামরুল হুদার নেতৃত্বে সবাই কাদে কাদ মিলিয়ে এক সাথে দলের জন্যে হয়ে কাজ করি আমরা আপনাদের পাশে আছি থাকবো ইনশাআল্লাহ। কোনো রকম বিতর্ক এবং ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা মাথা নোয়াবো না ইনশাআল্লাহ।

মনে রাখবেন প্রবাসে আপনাদের ২১০০ সাথী মানে ২১০০ টি পরিবার যারা স্বচ্ছল। তাদের দলের কাছে কোন চাওয়া পাওয়া নাই,আমারা দল থেকে কিছু চাই না শুধু এবং শুধুমাত্র দলকে দিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।। আপনাদের সকলের মঙল কামনা ও মা জননী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিদায় নিচ্ছি।আল্লাহ হাফেজ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অমর হোক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ তারেক রহমান জিন্দাবাদ। চৌদ্দগ্রাম বিএনপি জিন্দাবাদ জননেতা কামরুল হুদা জিন্দাবাদ।

আমাদের জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরাম এর সকল কার্যক্রম সব সমই আপনাদের কাছে জানাবো আপনারা আমাদের জন্য শুধু একটু দোয়া করবেন যাতে আমরা সুস্থ থেকে আপনাদের/ আমাদের দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে পারি এটুকুই আমাদের চাওয়া পাওয়া।

শুভেচ্ছান্তে —
আপনাদেরই সহযোদ্ধা বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী
হাসান রশীদ
সভাপতি, চৌদ্দগ্রাম জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরাম।
সিংগাপুর, গুনবতী চৌদ্দগ্রাম কুমিল্লা।

4 thoughts on “নেতাকর্মী ও দলকে সুসংগঠিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন হাসান রশীদ

  1. I’m extremely impressed with your writing skills and also with
    the layout on your weblog. Is this a paid theme or did
    you modify it yourself? Anyway keep up the excellent quality writing, it’s rare to
    see a great blog like this one nowadays.

  2. Hi! This is kind of off topic but I need some help from
    an established blog. Is it very difficult to set up your
    own blog? I’m not very techincal but I can figure things out pretty fast.
    I’m thinking about making my own but I’m not
    sure where to begin. Do you have any ideas or suggestions?
    Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *