1. islammamun1286@gmail.com : admin :
  2. alokitodhaka247@gmail.com : Saddam Alokito : Saddam Alokito
স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের নব জাগরণে বঙ্গবন্ধু
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের নব জাগরণে বঙ্গবন্ধু

রিপোর্ট
  • সময় : শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২
  • ১৯৭ Time View

বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবনা ছিল একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে চাই স্বাস্থ্যবান জাতি। বিশ^ সম্মোহনীদের নামের তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বাগ্রে ও স্বগৌরবে অবস্থান করছেন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরে আমরা অর্জন করি আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। যুদ্ধ বিদ্ধস্থ এই দেশের স্বাস্থ্য খাত কে দৃঢ় ্ও সূদুর প্রসারী করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু সাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছিলেন ব্যাপক সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বঙ্গবন্ধু তৃণমূল পর্যায়ে স¦াস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে গৃহীত ১০ শয্যার থানাস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিশে^ আজও সমাদৃত মডেল। বঙ্গবন্ধু সংবিধানে স¦াস্থ্যসেবা ও পুষ্টিসেবা পাওয়াকে মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের কর্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। দেশের সাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য তৎকালীন আইপিজিএম এ্যান্ড আর কে [বতর্মানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়] প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক দূর্বস্থার মধ্যেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের স্বাস্থ্য ভাবনা ও পদক্ষেপ গুলো ছিল অভাবনীয় এবং অতুলনীয়, গবেষণার জন্য তিনি বাংলাদেশের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। তখন দেশে মাত্র আটটি মেডিক্যাল কলেজ ছিল। প্রতিটি কলেজে তিনি অধ্যাপক এর পদসহ বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করেন। দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ক্ষেত্রে আন্ডার গ্রাজুয়েট এডুকেশন, পোষ্ট গ্রাজুয়েট এডুকেশন, সেই সঙ্গে মেডিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিটি বিষয়ে জাতির পিতার অবদান রয়েছে। যুদ্ধবিদ্ধস্থ বাংলাদেশে মেডিক্যাল শিক্ষার ডিগ্রি গুলো ব্রিটিশ জেনারেল মেডিক্যাল কাউন্সিল একে একে বাতিল করে দেয়। এর ফলে আমাদের দেশ থেকে ইংল্যান্ডে গ্রাজুয়েট, পোষ্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষা লাভের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জাতির পিতা তখন অত্যন্ত দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে ১৯৭২ সালে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অডার্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস (বিজিপিএস) প্রতিষ্ঠা করেন। যারা পাকিস্তান থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। যারা বিদেশ থেকে এক সাথে করেছেন। এ ধরনের ৫৪জন ফেলো নিয়ে বিসিপিএসের যাত্রা শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর গ্রহণকৃত এই পদক্ষেপের ফলেই বর্তমানে ৬হাজারের মতো ফেলো এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করে বিদেশে কাজ করছেন এবং ৩ হাজারের মত ফেলো এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করে দেশে কাজ করছেন। জাতির পিতা এই অনন্য অবদান-ই দেশের পোষ্ট গ্যাজুয়েট শিক্ষার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সফলতা এনেছে।
দেশের চিকিৎসা সেবাকে উন্নত করার পিছনে বঙ্গবন্ধুর অবদান উল্লেখযোগ্য। পঙ্গু হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারি ওপর এমএস ডিগ্রি চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু, এভাবে দেশে তিনি অর্থোপেডিক সার্জারি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি করেন। তাছাড়া পোষ্ট গ্যাজুয়েট শিক্ষার ক্ষেত্রে আইপিজিএম এ্যান্ড আর কে বঙ্গবন্ধু যখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে শাহবাগে শিফট করেন। তখন শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৩০০ করা হয়। পরে জাতির পিতা এটি আরও বৃদ্ধি করে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ৮ই অক্টোবর এ হাসপাতালে কেন্দ্রীয় রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের উদ্ধোধন করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য এ দেশের ৮৯ জন চিকিৎসক আত্নহুতি দিয়েছিলেন। তাদের স্বরণে স্মৃতিস্তম্ভ বানানোর জন্য আইজিপিএম এ্যান্ড আরের তৎকালীন ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা: নুরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন এবং তিনি তা সম্পন্ন করেছিলেন।

জাতির পিতার চিন্তা-চেতনা ছিল আমাদের চিন্তা-চেতনার চেয়ে বহুগুণে অগ্রসর। বঙ্গবন্ধু তখন একটা রেফারেল সিস্টেম এর কথা বলেছিলেন। প্রতিটি গ্রাম বা ওয়ার্ডে একজন স¦াস্থ্যকর্মী থাকবেন। যে স¦াস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে অসুস্থ লোককে চিহ্নিত করে ইউনিয়ন সাব সেন্টারে পাঠাবে। সেখানে থাকবে একজন প্যারামেডিক, একজন ডাক্তার এবং একজন র্নাস, সেখানে রোগী ভালো না হলে তাকে পাঠানো হবে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। থানা কমপ্লেক্সে রোগী সুস্থ না হলে পাঠাতে হবে জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ। ১৯৭৩ সালে তিনি কার্ডিও ফিজিওলজি ল্যাব প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু ইউনিয়নে সাব-সেন্টার ও থানা কমপ্লেক্স তৈরী করার ক্ষেএে প্রচুর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সব সাব সেন্টার ও থানা কমপ্লেক্স যাতে ১৯৭৮ সালের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয় সেভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কারণ এগুলো প্রতিষ্ঠা হলেই দেশের সকল মানুষকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৭১ সাল হতে ১৯৭৫ সাল এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের স্বাস্থ্য খাতের নবজাগরণে বঙ্গবন্ধু যে বিচক্ষণতা ও সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশকে বিশে^র আঙ্গিনায় তুলে ধরেছিলেন তার উদাহরণ বিশ্বের অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দেশের দুই অমূল্য রত্ন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যাদ¦য় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা । বর্তমানে বাংলাদেশের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে অপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং অনেক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার সঙ্গে শাহাদাতবরণকারী ১৮ জন সদস্যকে আমরা হারিয়েছি। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই একটি উন্নত অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হতো।

ডা: সৈয়দ ফারুক শিহাব
বিডিএস, বিসিএস,এমএস
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, প্রস্থোডনটিক্স বিভাগ
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2018-2021 Alokito Dhaka
Design and Developed by Classical IT