সাভারে নারী শ্রমিকের আত্মহত্যা

প্রচ্ছদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : সাভারে তৈরি পোশাক শিল্পে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বিপর্যস্ত নারী শ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ভারসাম্য হারিয়ে সোমবার দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলমাকান্দা এলাকার কাজিপুর ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার ৭ তলা থেকে লাফিয়ে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সহকর্মীরা জানায়, ফাহিমা পারিবারিকভাবে নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত ছিল। অভাবের সংসার আর  গ্রামের বাড়িতে তার এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। মাঝে মধ্যেই তার মধ্যে উদাসীন ভাব দেখতাম। কিন্তু হঠাৎ করে এমন ঘটনা সে ঘটিয়ে ফেলবে আমরা বুঝতে পারিনি।

উল্লেখ্য, পাবনার তারাবাড়িয়া গ্রামের আত্মহত্যাকারী নারী শ্রমিক ফাহিমা দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানায় কাজ করে আসছে। তার স্বামী মিরাজুল পাশের উইন্টার গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ফাহিমা কিছুদিন আগে  ছেলের অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিল সে। বাড়ি থেকে ফিরে এসেই এ ঘটনা ঘটায়।

নিহতের স্বামী মিরাজুল জানান, আমার স্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। আমাদের একজন প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার আর আমাদের সংসারের খরচ নিয়ে অনেক বেশি হতাশা কাজ করতো তার মধ্যে।  কিন্তু কখনও তার মধ্যে এ ধরনের আচরণ লক্ষ করিনি। ছুটি নিয়ে বাড়ি থেকে ফিরেছে ২ দিন হলো। হঠাৎ করে সে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। ওই দিনও শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার স্বামী মিরাজুল তাকে কারখানায় যেতে বারণ করে।

কারখানার ব্যবস্থাপক রেদুয়ানুল হক বলেন, সোমবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ করে শুনি আমাদের এক শ্রমিক ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছে। আমরা তাকে মেডিকেলে পাঠানোর জন্য তাৎক্ষণিক কারখানার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই।   মেডিকেলে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে শুনেছি ফাহিমা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। কিন্তু সে হঠাৎ করে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে তা কেউই বুঝে উঠতে পারেনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কর্র্তৃপক্ষ তার মৃতদেহ  ময়নাতদন্ত শেষে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করে। স্বামী মোঃ মিরাজুল ইসলাম  মোল্লা এবং মৃতের মামা মোঃ মনিরুল ইসলাম থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।পরবর্তীতে কারখানা কর্র্র্তৃপক্ষ তার লাশ দাফনসহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা করেন।