বিজয়ের গল্প :রাজারবাগ প্রথম সশস্র প্রতিরোধ ১৯৭১

শিক্ষাঙ্গন সাহিত্য ও দর্শন

 

সকাল গড়িয়ে দিনের সূর্যটা যতোই তাপ ছড়াতে থাকে, ততই আশঙ্কা-আতঙ্ক বাড়তেই থাকে। ক্রমেই আতঙ্কের কালো ছায়া দেখা

দেয় বাংলার আকাশে। দুপুরের দিকে বিভিন্ন সোর্সের থেকে খবর আসে যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আক্রমন হতে পারে।

খবরটা আসার সাথে সাথে বাঙালী পুলিশেরা একত্রিত হতে থাকে।

সন্ধ্যা পার হয়ে যেতে থাকে, থমথমে উত্তেজনা রাজারবাগের পুলিশ লাইনের মোটা দেয়াল ভেদ করে যেন টের পাওয়া যাচ্ছে।

রাত গভীর হতে থাকে। ১১টায় টহল বাহিনী খবর নিয়ে আসে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাজোয়া যানের বহরকে এগিয়ে আসতে

দেখা যাচ্ছে। পাকবাহিনীর এই আক্রমনের সংবাদ তাৎক্ষনিকভাবে সারাদেশের জেলা ও সাব ডিভিশনসমুহে পুলিশ বেতারে

বাজতে থাকে “Base for all station of east Pakistan police, keep listening, watch, we are already attacked by the pak

army. Try to save yourself, over” ঢং ঢং করে ঘন্টা বাজতে থাকে অস্ত্রাগারে। সবাই সেখানে এসে দাঁড়ায়। অস্ত্রাগারের দরজার

তালা গুলি করে ভেঙে ফেলে এক সেন্ট্রি। ছাদে গিয়ে পজিশন নিতে গিয়ে দেখল, শত শত পাকবাহিনী ট্যাংক ও কামান নিয়ে

এগিয়ে আসছে। আর তাদের হাতের রাইফেল বন্দুকগুলি খেলনার মত মনে হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ পুলিশ হাসপাতাল কোয়ার্টার এর

দিক থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তখনই যেন সবগুলো হাতের বন্দুকগুলি হয়ে উঠল জীবন্ত। আর বিশাল পাকবাহিনীর

মিছিলের সেনাগুলো হয়ে উঠল পিঁপড়াসম। ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল পাকসেনার দল এক নিমিষেই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা আবার

সংগঠিত হয়ে মর্টার ও হেভি মেশিনগান দিয়ে গুলিবর্ষন শুরু করে। পিআরএফ এর ৪টি ব্যারাকে আগুন ধরে যায়। পাকবাহিনী

ট্যাংক বহরসহ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করে।

কামান আর মর্টারের আক্রমন এক সময় থামে, বন্দি হয় প্রায় দেড়শ বাঙালী পুলিশ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস দখল করে নেয়

দখলদার বাহিনী, কিন্তু তার আগেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কিছু বীর বাঙালী অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ রাজারবাগ ত্যাগ করেন।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের সেদিনকার সেই অস্ত্র আর গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে সারাদেশে, সীমান্তবর্তী মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষন

শিবিরে এবং সন্মুখযুদ্ধে।

রাত ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আটশ পাকসেনার বিরুদ্ধে বাঙালী পুলিশের কিছু সদস্য বুকে অসীম সাহস নিয়ে সমান তালে

লড়ে চলে ট্যাংক, কামান, আর মর্টারের বিরুদ্ধে। শুরু হয় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। ইতিহাসে সূচনা হয়

একটি নতুন অধ্যায়ের