যৌনতা

জীবনযাপন

আমি আজ যে বিষয় টি নিয়ে লিখতে বসেছি, সেটি এই সমাজের একটি আত্মচিৎকার বলতে পারেন। বিষয়টি যৌনতা” আমার এই বক্তব্য কে কি ভাবে নিবেন জানিনা! শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এটা কেউ নিজের দিকে নিবেন না। ইদানিং পত্রিকা খুললেই দেখা যায় ধর্ষণ একজনের বউ আর এক জনের সাথে উধাও এমনতরো হাজারো খবর। কিন্তু আমরা শুধু খবর গুলো পড়ি আর মজা নিই! একটু ভিতরে প্রবেশ করে ভাবনার ভিতরের ভাবনা টাকে ভাববার অবকাশ কারুর নেই! যৌনতা নিয়ে কেনো এত অতৃপ্তি! কেনো অখুশি নারী হাত ধরে অপর পুরুষের! কেনো পালিয়ে যায় স্বামী সন্তান ছেড়ে অন্য যুবকের সাথে! আছে নানা কারণ আমি আজ শুধু যৌনতা নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করবো। প্রথমত আমাদের দেশের যুবক দের একটু যৌন ক্ষমতা কম উন্নত বিশ্বের যুবকদের থেকে! ডিজিটাল যুগের কল্যাণে আমরা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারি সেটা, বিদেশি একটা পর্নো ভিডিও দেখে যে মেয়েটি চিন্তা করে যে তার পুরুষ টি তাকেও সেই রকম তৃপ্তি দিবে, কিন্তু বাস্তবে ঘটে তার উল্টো! মেয়ে টি নিরাশ হয়! পায়না সেই তৃপ্তি। কিন্তু কেনো এমন হচ্ছে? মূল কথায় আসি। আসল বিষয় টি হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য টাই এমন! একটু ব্যাখা করি, যেমন আমাদের খাবার গুলোতে ভেজাল, ফরমালিন যুক্ত মাছ ও ফল মূল। তেলের মধ্যে মিশ্রণ, অতিরিক্ত সার ব্যাবহার করে শস্য উৎপাদন, এক কথায় কোনো খাবারই নিরাপদ নয়! আর এই সমস্ত খাবার আমরা জীবন বাঁচাতে প্রতি দিন খেয়ে যাচ্ছি! আর একটি বিষয়, মোটামুটি প্রতিটি যুবকই কোনো না কোনো নেশায় আসক্ত! হিরোইন, ইয়াবা, গাজা, মদ আরো কত কি! সবচে কম যে নেশা করে সে অন্তত সিগারেট সেবন করে, বাদ নেই কেউ রিকশা চালক থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত! সবাই নেশাখোর! আর যারা কোনো নেশা করে না তারা কোনো পার্সেন্টেজ এ পরে না। তারা সংখ্যায় খুব সামান্য। বলতে পারেন সংখ্যালঘু! তারপর আসুন ঢাকা শহরের কথায়, পৃথিবীর অন্যতম দূষিত নগরী এই ঢাকা! যেই শহরে এই ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। অনেক নারী আছেন যারা নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন সমাজের কথা ভেবে বাবা মার সম্মানের কথা চিন্তা করে, সন্তানের কথা ভেবে দিনের পর দিন মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছেন এই অনাকাঙ্খিত অতৃপ্তি। অনেকে লিপ্ত হচ্ছে পরকিয়ায়, কেউ আবার বিয়ের আগেই টেস্ট নিচ্ছে ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গীর! কারণ শরীর স্বাস্থ্য দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এই যুবক কতটুকু পারফেক্ট বিছানাতে। এভাবে বিয়ের আগেই অবাধ যৌনতায় মেতে উঠছে কিছু কিছু মেয়ে! ফলে হারিয়ে ফেলছে তার সতীত্ব! পরবর্তীতে সে বেপরোয়া হয়ে উঠছে! মানতে পারে না কোনো অনুশাসন। ফলে বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে দাড়ায়।তারপর আছে আরও কিছু কারণ যেমন আমাদের অভাব অনটন! সামাজিক ও মানসিক অস্থিরতা, একটা মানুষ যখন মানসিক দিক থেকে বিপর্যস্ত তখন কি করে সে সঙ্গিনীকে তৃপ্তি দিবে এ প্রশ্ন আমি আপনাদের করছি! তাই প্রথমেই বলেছি এটা আমাদের দেশের নির্মম এক চিত্র! এর থেকে পরিত্রাণ এর কোনো উপায় এই মুহূর্তে নেই! আবার নেই বললেও ঠিক হবে না, আছে কিছু ভিন্ন উপায় যেমন ভায়াগ্রা। কিন্তু এটাতে রয়েছে সাময়িক সুখ, এটা কোনো পার্মানেন্ট সমাধান না। আর এটার রয়েছে অনেক ক্ষতিকর দিক এটা যেমন সুখ দিবে কেড়ে নিবে তার থেকে অনেক বেশি হারাতে হবে পুরুষত্ব! তাই ওপথে না যাওয়া ই ভালো। তবে হ্যা, আমরা যদি এখন থেকেই সচেতন হই তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালো থাকবে বলে আমি মনে করি। যেমন নেশা কে বাদ দিতে হবে, জমিতে সবুজ সার এর ব্যাবহার করতে হবে, পলিথিন ব্যাবহার বন্ধ করতে হবে, ফরমালিন ব্যবহার করা যাবে না, দেশের প্রধানদের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা যাবে না। মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে হবে। মানুষ যেনো আতংকের মাঝে জীবন পাত না করে, বাইরে বের হওয়া মানুষ টি যেনো তার নিদ্দিষ্ট কর্ম সেরে আবার নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে পারে…..!
এই পরিবেশ যেদিন আসবে সেদিন হবে সত্যিকারের বিজয়।

 লেখালেখি,

Pallab Rivulet
বিশ্ব সাহিত্য ভবন•ঢাকা বাংলাদেশ।
(যদি মনে হয় এই লেখাটি পড়ে সমাজ উপকৃত হবে তবে শেয়ার করুন)