মহামারী – পল্লব রিভূলেট

করোনা আপডেট প্রচ্ছদ সাহিত্য ও দর্শন

মহামারী নিয়ে মাস ছয়েক আগে একটি কবিতা লিখেছিলাম,
সেখানে উল্লেখ করেছিলাম পলিথিন, কল কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, কেমিক্যাল যুক্ত সার, যান বাহন থেকে নির্গত শিশা ও আরো বহু বিষয় নিয়ে। পরিশেষে বলেছিলাম আমরা কি করে প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছি নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে। আপনারা জানেন পৃথিবীর বায়ু মন্ডল যতটুকু তাপমাত্রায় থাকার কথা বর্তমানে সেই তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো করে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন যে আমাদের দেশ টি আর ছয় ঋতুর দেশ নেই। এখন অকালেই বৃষ্টি ঝরে, সূর্যের তাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে মোট কথা বিশ্ব প্রকৃতি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

আর প্রকৃতি তা কখনোই মেনে নেবে না। যে ভাবেই হোক সে সেটা ঠিক করে নেয়। তাতে যদি কোনো কঠোর ও নির্মম কাজ করতে হয় তবুও সে করে ফেলে। করে বৃহৎ ভালোর জন্য। আমরা আজ আছি কাল নেই, কিন্তু তাকে টিকে থাকতে হবে কেয়ামত পর্যন্ত। আগামী প্রজন্ম কে কি করে বাঁচিয়ে রাখতে হবে সুস্থ্য রাখতে হবে সে দায়িত্ব তার। যদিও সে আশা করে আমরাও তার নিয়ম মেনে চলবো। কিন্তু বস্তুত আমরা তাকে নিরাশ করি। প্রকৃতির সমস্ত কিছুই প্রচন্ড ভাবে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল শুধু মানুষ ও জ্বিন বাদে। আমরা মানুষরা যখন পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ি তখন প্রকৃতির অবলা সমস্ত কিছু আল্লাহর দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকে। তারা অবাক হয় আমাদের পাপিষ্ঠ কর্ম দেখে। এটাও একটা কারণ ( যদিও এই বিষয়টি অত্যন্ত উঁচু স্তরের ও গোপনীয় ) এই বিষয় নিয়ে এখানে খোলা রাস্তায় দাড়িয়ে আলোচনা করতে চাই না। যেহেতু বিষয়টি গোপনীয় তাই সেটা গোপনই থাক। জ্ঞানীদের জন্য ওই টুকু উচ্চারণ যথেষ্ট বলে মনে করছি। আর যদি বিশদ জানতে চান তবে কোরআন শরীফ থেকে জেনে নিন কি করে মহান আল্লাহ ব্যাঙ,পঙ্গপাল,রক্ত,উকুন,জলোচ্ছাস দিয়ে মানুষকে সঠিক পথে চলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

১৫২০,১৬২০,১৭২০,১৮২০,১৯২০ সবশেষে ২০২০ প্রতি একশ বছর পর পর একটি করে মহামারী এসেছে আমাদের পৃথিবীতে। কিন্তু কেনো ?
এই ভাবনাটা ভাববার সময় এসেছে আজ। ১৯২০ সালের মানুষের থেকে ২০২০ এর মানুষরা অনেক উন্নত। উন্নত আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি। আমরা যতই উন্নতির শিখরে উঠছি ততই পৃথিবীকে অনিরাপদ বানিয়ে ফেলছি। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মর জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে পারছি না।
আমরা শুধু বর্তমানের সুবিধা গুলো উপভোগ করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ছি।
আমরা পারমাণবিক শক্তির টেস্ট করছি কখনো সমুদ্রে কখনো নিঃসীম আকাশে।
যেটা মাটিতে করলে ধ্বংস হয়ে যেতো পৃথিবী।
কিন্তু এতে করে কি পরিমান ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে আমাদের বায়ু মন্ডল সেটা একবারও ভেবে দেখছিনা। আমরা বড়ত্ব ফলাতে মরিয়া হয়ে উঠেছি। মনে রাখতে হবে প্রতিটি জিনিসের একটি নিদ্দিষ্ট সহ্য ক্ষমতা থাকে। একটি বেড়াল এর যদি দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তবে সেও ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী হয়ে যায়।

ফিরে যাই মূল কথায়,
কি করে এই করোনা ভাইরাস পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করবে। নিশ্চয় এই প্রশ্নটি আপনাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটাই বলছি: ভালো করে লক্ষ্য করুন সারা বিশ্ব আজ অথর্ব হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশও লক ডাউন হয়ে যাবে দুই তিন দিনের মধ্যে। তাহলে কি হবে! পৃথিবীতে যান বাহন নাম মাত্র চলবে, কল কারখানা বন্ধ, মানুষ গৃহবন্দী। কোন ধরনের এক্টিভিটিস থাকছেনা। আর এর মধ্যে কমে যাবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা। এই ভাইরাসে মানুষ এর মৃত্যু হবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভয়ে ও আতঙ্কে।
এ প্রসঙ্গে ছোট্ট একটি গল্পঃ বলি,
অনেক দিন আগের কথা,
আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করছিলো।
সেই বিজ্ঞানী দল দুজন মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত আসামিকে সরকারের কাছ থেকে চেয়ে নিলো এই বলে যে এই দুজনকে তো মেরে ফেলা হবেই, আমরা এদের মৃত্যুর ভার নিতে চাই। আর তাতে করে আমরা একটা পরীক্ষা করতে পারবো।
যা কিনা একটা বড়ো ধরনের আবিষ্কার হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তৎকালীন সরকার তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।

বিজ্ঞানী দল সেই আসামি দুজনকে একটি বদ্ধ কক্ষে নিয়ে গেলেন এবং দুজনকে চেয়ার এর সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেললেন।

এর পর এক একজনের চোখ বেঁধে ফেলা হলো আর অন্য জনের চোখ খোলা রেখে দিলো। এখন চোখ বাঁধা আসামির সামনে একটি বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেওয়া হলো। যথারীতি সাপ দংশন করলো চোখ বাঁধা আসামিকে। সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হলো। আসামি দেখলো যে তার পায়ে সাপ দংশন করেছে এবং সে সাপটিকে দেখলো। তার কিছুক্ষণ পর লোকটি মৃত্যু বরণ করলো। এবার বিজ্ঞানী দল দ্বিতীয় আসামির চোখ বেঁধে ফেললো, কিন্তু এই আসামিকে সাপের কামড় দিলো না, পরিবর্তে দুটো আলপিন দিয়ে খোঁচা দিলো, এবং সাথে সাথে তার চোখও খুলে দেওয়া হলো। লোকটি দেখলো যে সাপটি তার কাছ থেকে ঘরের অন্য প্রান্তে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সেই লোকটিও মৃত্যু বরণ করলো। তখন বিজ্ঞানী দল দ্বিতীয় লোকটির মৃত দেহ পোস্ট মর্টেম করে জানতে পারলো যে এই লোকটি মৃত্যু বরণ করেছে বিষ ক্রিয়ায়।

কিন্তু কি ভাবে…! এ প্রশ্নের উত্তর তারা এভাবে দিলেন যে প্রতিটি মানুষের শরীরে প্রচুর পরিমাণে বিষ রয়েছে, যার পরিমাণ নিতান্ত কম নয়। একটি কিং কোবরার চেয়ে একজন মানুষের শরীরে বিষের পরিমাণ বেশি থাকে। রিপোর্টে জানা গেলো দ্বিতীয় আসামি নিজে থেকেই তার শরীরের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষ গুলো একত্রিত করেছে মস্তিষ্কের অর্ডার অনুযায়ী এবং যতটুকু বিষ প্রয়োজন ছিল ততটুকু বিষ তার দেহে ছিলো না! সেক্ষেত্রে শরীরের সিস্টেম সেটা তৈরি করে নিয়েছে ও আঘাত করেছে আলপিনের ক্ষত তে। আর তাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, একবার যদি আপনাকে আতঙ্ক পেয়ে বসে তবে আর রক্ষা নেই। তাই আসুন সাবধান হই। আপাতত তিন সপ্তাহ নিজ ঘরে বন্দি অবস্থায় থাকি জীবনের বাকি দিন গুলো উন্মুক্ত থাকার জন্য। আর ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিজের চিকিৎসা নিজেই করি।

যে যাই বলুক এই রোগের কোনো চিকিৎসা এখনো বের হয় নি তাই কোনো গুজবে কান দিবেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বড় করে নিশ্বাস নিয়ে ১৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, যদি কাসি আসে বা অন্য কোনো সমস্যা হয় তবে বুঝে নিবেন আপনি আক্রান্ত। তখন নিজেকে একা করে ফেলুন, কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গীরা করুন, কিছু গরম পানি খান তবে বেশি না। ভাইরাসটি পেটের ভেতর চলে গেলে এমনিতেই মারা যাবে। ভিটামিন সি খান আরো যা করতে বলা হয়েছে তাই করুন।

আপনি সুস্থ্য হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। আর একটি কথা…. এই মহামারী শেষ হলে আমরা ফিরে পাবো এক নতুন ও সতেজ পৃথিবী। তখন আবারো যেনো পৃথিবীকে অনিরাপদ না করি। তাহলে ঠেকানো যাবে না ২১২০ সালের মহামারী। জনস্বার্থে পোস্টটি শেয়ার করুন। পল্লব রিভূলেট।