ভোট বর্জন করলেন যারা

রাজনীতি সারাদেশ

ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫৮ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। পোলিং এজেন্টদের

কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তারা নির্বাচন বর্জন করেছেন বলে জানা গেছে।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মটরগাড়ি প্রতীকের অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি নির্বাচন থেকে সরে

দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এ আসনে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানো

হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টায় নবাবগঞ্জের কামারখোলায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে সালমা ইসলামের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট

ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, আজ ৩০ ডিসেম্বর, বিজয়ের মাস। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির লোক। আমার

প্রার্থী সালমা ইসলাম এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী। স্বতন্ত্র হলেও তিনিও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির লোক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সালমান এফ রহমান। এ আসনে নির্বাচনী প্রচারে আমার প্রার্থী কখনোই

সমান সুযোগ পায়নি। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার নিজস্ব বাহিনী দ্বারা আমার প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প,

পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ কর্মীদের ওপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও

লুটপাট অব্যাহতভাবে চালিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনী মাঠে ছিলাম। কিন্তু গত তিন দিন ধরে সেই পরিস্থিতি অসহনীয় ও

অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে।

ঢাকা-১৭: এ আসনে ভোট বর্জন করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব

রহমান পার্থ। তিনি বারিধারায় নিজ বাসায় দুপুর পৌনে ২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

বাগেরহাট: বাগেরহাট জেলার ৪টি আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার দুপুরে খুলনা

প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম এই ভোট বর্জনের কথা জানান।

৪টি আসনে নির্বাচন বর্জন করা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা হলেন বাগেরহাট ১ আসনের প্রার্থী বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ

রানা, বাগেরহাট ২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম, বাগেরহাট-৩ আসনের ধানের শীষের

প্রার্থী বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল ওয়াদুদ শেখ এবং বাগেরহাট ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা

জামায়াত নেতা মো. আব্দুল আলিম। অপর দিকে বাগেরহাট ৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের সোমনাথ দে

তিনিও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

সাতক্ষীরা-৪: সাতক্ষীরা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের গাজী নজরুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন। তিনি

কারাবন্দি থাকায় তার পক্ষে এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী অধ্যাপক আবদুল জলিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এমএ খালেক ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে

নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেন।

ফরিদপুর-২: ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই আসনের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রে শনিবার রাতেই ভোট দিয়ে দেয়া হয়েছে।

খুলনা: খুলনা ১, ৩, ৪, ৫, ও ৬ আসনে নির্বাচন বর্জন করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা-১ আসনের

বিএনপি প্রার্থী আমির এজাজ খান ভোট বর্জন করেন। খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ভোট বর্জন

করেছেন। খুলনা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আজীজুল বারী হেলাল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। খুলনা-৬

আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ভোট বর্জন করেছেন।

আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

শেরপুর: বিএনপি মনোনীত ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনের প্রার্থী

ফাহিম চৌধুরী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সময়ে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির

সভাপতি সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জামালপুর: জামালপুর ২ আসনের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু ও জামালপুর ৩ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভোট বর্জন

করেছেন। তারা দুজনই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাট-১ ও ২ আসনের দুজন প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। তারা হলেন জয়পুরহাট-১ আসনের জাতীয় পার্টির

(লঙ্গল) আ স ম মুক্তাদির তিতাস এবং জয়পুরহাট-২ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এইএম খলিলুর রহমান।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ ৩, ৫, ৬, ৯ ও ১১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

তারা হলেন ময়মনসিংহ- ৩ আসনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইন, ময়মনসিংহ- ৫ আসনের জাকির

হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ- ৬ আসনের ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহম্মেদ, ময়মনসিংহ- ৯ আসনের খুররম খান চৌধুরী ও

ময়মনসিংহ-১১ আসনের ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু।

নোয়াখালী: নোয়াখালী ৬টি নির্বাচনী আসনে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও

সোনাইমুড়ী) বিএনপির এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ (সেনবাগ) বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের প্রার্থী বিএনপির সিনিয়র ভাইস

চেয়ারম্যান বরকত উল্লা, নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান,

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও নোয়াখালী-৬

(হাতিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী প্রাকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম নির্বচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

টাঙ্গাইল-৮: এ আসনে (বাসাইল-সখীপুর) জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী আশরাফ সিদ্দিকী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের আসনের ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা (ধানের শীষ)

নির্বাচন বয়কট করেছেন। ভোটর শুরুর ৪ ঘন্টা পর বেলা ১২ টার দিকে নিজ বাসভবনে তিনি এ ঘোষনা দেন।

মাদারীপুর: বিএনপির পোলিং এজেন্টদের মারধর, ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া ও অনেক কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়াসহ বিভিন্ন

অভিযোগ এনে মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ভোট বর্জন করেছেন।

রাজশাহী-৪: এ আসনে বিএনপির আবু হেনা, নির্বাচন বর্জন করেছেন।

নীলফামারী: নীলফামারী-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জেলা জামায়াতের নেতা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে

ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সুরা সদস্য আজিজুল ইসলাম নির্বাচন বর্জন করেছেন।

নাটোর: নাটোর-২ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য

মজিবুর রহমান সেন্টু নির্বাচন বর্জন করেছেন।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদের। আহমদ

আবদুল কাদেরের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট জেলা খেলাফত মজিলসের সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুল করিম নির্বাচন বর্জনের

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা-৪ আসনের (গোবিন্দগঞ্জ) জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী কাজী মশিউর রহমান নির্বাচন বর্জন

করেছেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে গোবিন্দগঞ্জের খানাবাড়ি নিজ অফিস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের

ঘোষণা দেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও-২: এ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হাকিম নির্বাচন বর্জন করেছেন।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী শরীফুল আলম,

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্টের (জেএসডি) প্রার্থী ড. সাইফুল ইসলাম নির্বাচন বর্জন করেছেন।

বগুড়া: বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলম, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না নির্বাচন বর্জণের ঘোষণা দিয়েছেন।

যশোর: যশোর-১ (শার্শা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-৪

(বাঘারপড়া-অভয়নগর) আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র

প্রার্থী কামরুল হাসান নির্বাচন বর্জন করেছেন।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সদর উপজলোর একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা,

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর উপজলোর একাংশ-কামারখন্দ) আসনে বিএনপির রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ)

আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা

মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে বিএনপি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম ভোট

বর্জন করেছেন।

রাজবাড়ী: নির্বাচন বর্জন করেছেন রাজবাড়ীর ২টি সংসদীয় আসনের বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুই প্রার্থী। রাজবাড়ী-১

আসনের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও রাজবাড়ী-২ আসনের প্রার্থী

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ নাসিরুল হক সাবু নির্বাচন বয়কট করেন।