ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন ইইউ নেতাদের

আন্তর্জাতিক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) বিষয়ক চ‚ড়ান্ত খসড়া চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয়

ইউনিয়ন (ইইউ)। রোববার ব্রাসেলসে ইইউ জোটের শীষর্ নেতাদের সম্মেলনে এই অনুমোদন দেয়া হয়। একইসঙ্গে এই চুক্তি

প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে সমথর্ন দেয়ার জন্য ব্রিটিশদের আহŸান জানিয়েছেন তারা। সংবাদসূত্র : বিবিসি, এএফপি অনলাইন

ইইউ জোটের দীঘর্ ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ২৭ জন শীষর্ নেতার স্বাক্ষরে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট-বিষয়ক খসড়া চুক্তিটি অনুমোদন পায়।

অবশ্য, এর আগে গত শনিবার ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের জন্য ইইউ নেতাদের সুপারিশ করেছিলেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। তবে ইইউ থেকে চুক্তিটি অনুমোদন পেলেও শঙ্কা রয়ে যাচ্ছে এর কাযর্কারিতা নিয়ে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সামনে এখন সবচেয়ে বড় চাপ পালাের্মন্টের অনুমোদন আদায় করা। আগামী ডিসেম্বরের

শুরুতে পালাের্মন্টে এ ব্যাপারে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ঝড় বইছে। তাই বোঝা যাচ্ছে, অনেক পালাের্মন্ট সদস্য এই

চুক্তির বিরোধিতা করতে পারেন।

 

যুক্তরাজ্য ২০১৯ সালের ২৯ মাচর্ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার তারিখ নিধার্রণ করেছে। ২০১৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত এক

গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পড়ার পর যুক্তরাজ্য ইইউ ছাড়ার শতর্গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

এরপর দুই পক্ষে ১৮ মাসের বেশি সময়ের আলোচনার পর এই চুক্তি হলো।

রোববার ইইউ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৮৫ পৃষ্ঠার এই পাকা চুক্তিটিতে সই করেন। এতে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে

যাওয়ার বিভিন্ন নিদের্শনা রয়েছে। এ ছাড়াও দুইপক্ষের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পকর্ নিয়ে ঘোষণাপত্রও রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে চুক্তিতে পালাের্মন্টের সমথর্ন পাবেনÑ এমনটিই মনে করছেন বলে সাংবাদিকদের

জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নিবার্হী কমর্কতার্ জ্যঁ ক্লঁদ জাঙ্কার।

তবে মে চুক্তিতে সমথর্ন পেতে ব্যথর্ হলে কী হবে, সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। এরপর ব্রিটিশ পালাের্মন্টে চুক্তিটি নিয়ে ভোট

হবে। তবে এটি যে পাস হবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কারণ, বিরোধীদল লেবার পাটির্ ও অন্য দলগুলোসহ অনেক কনজারভেটিভ এমপি’ও চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন।

দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, যিনি ব্রেক্সিট ইস্যুর কারণে মে’র মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ছাড়াও

গত কয়েকদিনে যুক্তরাজ্যে মন্ত্রীদের পদ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে।

সম্প্রতি ব্রেক্সিট চুক্তির সমালোচনা করে জনসন বলেন, এই চুক্তির অধীনে যুক্তরাজ্য ইইউয়ের একটি ‘উপরাজ্যে’ পরিণত হবে।

এ ছাড়াও ব্রেক্সিট আলোচনায় জিব্রাল্টার ইস্যু নিয়ে যে আলাপ হয়েছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না স্পেন, তাই শীষর্ বৈঠকের আগে

শেষ মুহ‚তের্ আপত্তি তুলেছিল মাদ্রিদ। এ বিষয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সমঝোতা করেন ইইউয়ের নেতারা।