বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও আজকের শিক্ষকের করণীয়। উত্তম কুমার দাস

শিক্ষাঙ্গন

আলোকিত ঢাকা ডেস্ক |

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে হিটলারের নাজি কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পে ইহুদি বন্দির লেখা এক চিঠি উদ্ধার হয়েছিলো। যে চিঠিতে বন্দি মানুষটি তাঁর প্রিয় শিক্ষককে লিখেছিলেন।

প্রিয় শ্রদ্ধেয় শিক্ষক,
আমি একজন ভাগ্যবান, হিটলারের কন্সেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে জীবিত অবস্থায় মুক্ত আকাশের নিচে পৃথিবীর বুকে ফিরছি এবং ক্যাম্পে যে দৃশ্য দেখেছি তা সকলের দেখা উচিত ;
গ্যাস চেম্বার তৈরি হয়েছে শিক্ষিত প্রকৌশলীর দ্বারা।

বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছে শিক্ষিত রসায়নবিদ দ্বারা।

শিক্ষিত চিকিৎসকরা কিভাবে বাচ্চাদের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছে।

শিক্ষিত সেবিকারা কিভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দিয়েছে অসহায় মানুষদের।

এতো স্রেফ বিচ্ছিন্ন কিছু উদাহরণ মাত্র।

বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষিত হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন নির্বিচারে শিশু ও মহিলা সহ অসহায় মানুষের কাতর আর্তিতে কর্ণপাত না করেও উল্লাসের সাথে মানুষ হত্যা করতে দেখেছি।

এসব কিছু দেখার পর এখন আমার শিক্ষার প্রতি বড় সন্দেহ হয়।
মনে হয় শিক্ষা অর্থহীন একটা বিষয়।

তাই একান্ত বিনম্র অনুরোধ আপনি আপনার ছাত্রদের কেবল পাঠ্যপুস্তক না পড়িয়ে ‘মানুষ’ হয়ে উঠতেও সাহায্য করুন।

একটা জিনিস সর্বদা খেয়াল রাখবেন, আপনার শিক্ষায় যেন কোন শিক্ষিত দৈত্য, জ্ঞানী শয়তান ও সর্বজ্ঞ মূর্খ তৈরি না হয়।

লিখতে ও পড়তে শিখে; জটিল জটিল অংক আয়ত্ত করে, বিজ্ঞানের বড় বড় আবিষ্কার করে যদি মানুষ হয়ে মানুষের উন্নতিই না করা সম্ভব হয় তাহলে কিসের শিক্ষা?
সানুনয় অনুরোধ ও দয়া করে লক্ষ্য রাখবেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেনো স্রেফ শিক্ষিত হওয়ার চেয়েও বড় কিছু হয়, ওরা যেনো মানুষ হয়।

শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ;

আশা ও বিশ্বাস আপনি কথা রাখবেন।

 

 

লেখক :
উত্তম কুমার দাস

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা