নিজ উপজেলা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন একরামুজ্জামান

বাংলাদেশ

আলোকিত ঢাকা | নিজস্ব প্রতিবেদক  :

করোনার এই দুর্বিষহ পরিস্হিতিতে আরএকে গ্রুপ সহ এসএকে একরামুজ্জামান পরিচালিত প্রায় ৩০ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীগন এবং তার নিজ উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকা নাসিরনগরের অসহায় মানুষজন যখন শংকিত ও বিপর্যস্ত তখন তাদের পাশে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন দেশ বরেণ্য শিল্পপতি, আরএকে গ্রুপের এমডি, সিআইপি এসএকে একরামুজ্জামান। তিনি তার শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের করোনা আক্রান্ত সদস্যদের চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য নিজ উদ্যোগে গঠন করলেন “SAK Corona Combat Mission” (এসএকে করোনা কমবেট মিশন) নামক একটি তড়িৎ সহায়তা প্রকল্প এবং নিজ উপজেলার অসহায় ও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য হাতে নিলেন “প্রথম নাসিরনগর” নামক আলোচিত এক কর্মসূচি।

জানা গেছে, আরএকে গ্রুপ সহ একরামুজ্জামান পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এসএকে করোনা কমবেট মিশন নামক এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী কর্মকর্তাগন দ্বারা প্রতিষ্ঠান গুলোর সদস্যদের যারা করোনা উপসর্গে অসুস্থ তাদের কোভিড টেষ্ট করার ব্যবস্হা করা এবং আক্রান্তদের জন্য সার্বিক সহযোগিতা সহ আইসোলেশনে রাখার
ব্যবস্হা করা হচ্ছে । ইতিমধ্যেই একটি ৬ তলা ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কোভিড পজেটিভ হওয়া সদস্যদের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্হা করেছেন। প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবী ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সর্বদাই যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে । যখন বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকগন বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন, কর্মচারী কর্মকর্তাদের বেতন ও চিকিৎসাসেবা এড়িয়ে যাচ্ছেন তখন একরামুজ্জামানের এমন উদার ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের আতঙ্কগ্রস্ত সদস্যদের মধ্যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফেইসবুক পোস্টে তার মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ পাওয়া যাচ্ছে।

অপর দিকে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা নাসিরনগর উপজেলায়ও অসহায়দের মাঝে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাহায্য সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রভাবশালী এই সদস্য উপজেলা ও ইউনিয়ন সমূহের বিএনপির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ১১৭ টি ওয়ার্ডে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০ জন করে প্রায় ২৪০০ জন কর্মহীন, সরকার প্রদত্ত ত্রাণের আওতার বাইরে অসহায় মানুষজনদের নাম ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করে নিজ তত্ত্বাবধানে প্রত্যেককে ১০২০ টাকা করে প্রদান করেছেন। এবং নাসিরনগর উপজেলার বাইরে বিভিন্ন শহরে অবস্হানরত কর্মহীন ও সংকটাপন্নদের সহযোগিতার জন্য নাসিরনগরের সমাজকর্মী ও পেশাজীবিদের সমন্বয়ে প্রথম নাসিরনগর নামক ফেইসবুক পেইজ ভিত্তিক একটি প্রকল্প তৈরি করে প্রদত্ত হটলাইন নাম্বারের মাধ্যমে যোগাযোগকৃত বিপদগ্রস্তদের যাচাই-বাছাই করে প্রত্যেককে ন্যূনতম ১/২ হাজার টাকা করে প্রায় ৫০০ জন ব্যক্তি ও পরিবারকে বিকাশ নাম্বারের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান করছেন। অনুদান প্রদানের এই অভিনব প্রক্রিয়া এলাকা ও দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে প্রথম নাসিরনগরের উদ্যোগে উপজেলার কয়েকজন প্রফেসর সহ করোনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টীম গঠন করা হয়েছে। যাদের দ্বারা নাসিরনগর উপজেলার করোনা আক্রান্ত রোগীদের সার্বিক চিকিৎসা সেবারও ব্যবস্হা করা হয়েছে। এমনকি একরামুজ্জামান নিজে উপজেলার করোনা আক্রান্তদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে সাহস ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন।

প্রথম নাসিরনগরের উদ্যোক্তাদের একজন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং আলোকিত ঢাকা নিউজ পোর্টালের সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম মুনির জানান, “এই মহাসংকটে অসহায়দের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমার কাছে আরো নতুন ভাবে উপলব্ধি হলো, রাজনীতি এবং ব্যবসার বাইরেও জনাব একরামুজ্জামান একজন প্রচুর আইডিয়া, উদ্ভাবনী এবং সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন প্রচন্ড মেধাবী একজন পরিপূর্ণ মানবিক মানুষ। তিনি কখনো রাষ্ট্র ও সরকারের কোনো পর্যায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত হলে তার অসাধারণ প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ ও জনগন আশাতীত রকমের উপকৃত হতো।”

নাসিরনগর উপজেলা, আরএকে সিরামিকস, স্টার সিরামিকস ও রাকীন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, এই চরম সংকট কালে নিজ উপজেলার সংকটাপন্ন অসহায় মানুষজন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর আতঙ্কগ্রস্ত দিশেহারা সদস্যদের কাছে একরামুজ্জামান আজ মহীরূহ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সরকারের পাশাপাশি তার মতো আরো হৃদয়বান ব্যক্তিগন এগিয়ে আসলে এই দুর্যোগ মোকাবেলা আরো সহজতর হবে।