ডিএনসিসির ঈদ উপহার পাবে ৮৬ হাজার অসহায় পরিবার

জাতীয়

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আর দু-তিন দিন বাদেই ঈদুল ফিতর। করোনা সংকটের মাঝে এবার ঈদের খুশি মলিন হয়েছে সব শ্রেণির মানুষের। তবে অসহায় মানুষের কষ্টটা আরও বেশি। তাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বসবাসরত ৮৬ হাজার অসহায় পরিবারকে ঈদ উপহার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় তিনি এ কথা জানান।

৫৪ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১৮ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরের প্রত্যেকের মাধ্যমে ১ হাজার করে মোট ৭২ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদের উপহার বিতরণ করা হবে। এছাড়া অন্যান্যের মাধ্যমে আরও ১৪ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ-উপহার বিতরণ করা হবে। ঈদ-উপহারের প্রতিটি প্যাকেটে চিনি ১ কেজি, সুজি ৫০০ গ্রাম, মুসুর ডাল ১ কেজি, মিনিকেট চাল ২ কেজি, ময়দা ১ কেজি ও গুঁড়া দুধ ২৫০ গ্রাম থাকবে।

যে সব পরিবার এরইমধ্যে মানবিক সহায়তা, ওএমএস কার্ড এবং অন্য কোনোভাবে ত্রাণসামগ্রী পাননি মেয়র তাদের মাঝে এসকল ঈদ-উপহার বিতরণ করার নির্দেশ দেন। কোনো পরিবারকে যেন একাধিকবার ঈদ-উপহার দেওয়া না হয় সেজন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সমাজ কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ঈদ-উপহার বিতরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এ ছাড়া করোনা ভাইরাস মোকবিলায় চলমান অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সভায় মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, ডিএনসিসি এলাকার ১ হাজার ৮৯০টি মসজিদের ইমামদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনদের প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে ঈদ-উপহার পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে যেভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আমদেরকে অক্ষরে-অক্ষরে পালন করতে হবে। দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে। সব ত্রাণসামগ্রী বা ঈদ-উপহার স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করতে হবে।’

মেয়র বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য রাজস্ব আদায় বন্ধ আছে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রসারিত এলাকার কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহ অবিলম্বে করের আওতায় আনা হবে।’

এডিস মশা প্রতিরোধে চলমান চিরুনি অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিরুনি অভিযান জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসা-বাড়ি, ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা ছাড়াও যে কোনো প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানেও এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঈদের নামাজের জামাত প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘করোনাভাইরাসে গণসংক্রমণ রোধে কোনো অবস্থাতেই বাইরে ঈদের জামাতের আয়োজন করতে দেয়া যাবে না। এজন্য সকল কাউন্সিলরকে তিনি সচেতন থাকার নির্দেশ দেন।’

সভায় সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরবৃন্দ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।