ঠান্ডা লাগলে যে ৮ খাবার খাবেন!

জীবনযাপন

দুর্বল ইমিউন সিস্টেম অথবা প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব আছে এমন লোকেরা, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা সমস্যায় ভুগেন। ঠান্ডা লাগলে গলায় খুসখুস ভাব, নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথা ভার হয়ে থাকা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়।

কিছু খাবার আছে যা ঠান্ডা উপশমে সাহায্য করতে পারে। এখানে ঠান্ডা লাগলে অবশ্যই খাওয়া উচিত এমন ৮টি খাবার দেওয়া হলো।

* চিকেন নুডলস স্যুপ

যখন আপনার তীব্র ঠান্ডা থাকবে, তখন এক বাটি গরম চিকেন নুডল স্যুপ ভোজন আপনাকে স্বস্তির চেয়েও বেশি কিছু দেবে। ২০১০ সালে আমেরিকান কলেজ অব চেস্ট ফিজিশিয়ানসের জার্নাল চেস্টে প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কার গবেষক ডা. স্টিফেন রেনার্ডের গবেষণা থেকে জানা যায়, চিকেন স্যুপে প্রদাহ-বিরোধী উপাদান থাকে যা ঠান্ডার উপসর্গ উপশম করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এক বাটি চিকেন স্যুপ দিয়ে শুরু করুন। গবেষণা আমাদেরকে দেখিয়েছে এটি কীভাবে কাজ করে। আমরা ইতোমধ্যে জানি যে পুষ্টি সমৃদ্ধ ডায়েট ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।’

* দুধ ও অন্যান্য ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- দুধ ও ভিটামিন ডি ফর্টিফায়েড সিরিয়াল) ঠান্ডা উপশমে সাহায্য করতে পারে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, ভিটামিন ডি’র ঘাটতি নেই এমন লোকদের তুলনায় ভিটামিন ডি’র নিম্ন মাত্রার লোকদের ঠান্ডা বেশি লেগেছিল। এছাড়া এসব খাবার ঠান্ডা আবহাওয়ার মাসগুলোতে মেজাজ উন্নত করতে সহায়তা করে, লয়োলা ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে।

* গাজর ও অন্যান্য ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার

একটি সুস্থ শরীরের জন্য সকল ধরনের ভিটামিনই প্রয়োজন, কিন্তু হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল বলছে যে, শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম বজায় রাখার জন্য অন্যতম সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন হচ্ছে ভিটামিন এ। যখন আপনার ঠান্ডা থাকবে, তখন মিষ্টি আলু, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক অথবা বাঁধাকপি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

* ঠান্ডা গ্রিন টি

গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরা, যা আপনার ইমিউন সিস্টেম উন্নত করবে, এমনকি আপনি অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও। গ্রিন টি ঠান্ডার সঙ্গে আসা উপসর্গও প্রশমিত করতে সাহায্য করে, যেমন- গলাব্যথা। ডা. মাইকেল গ্রেগার এক মগ গরম গ্রিন টি’র পরিবর্তে ঠান্ডা গ্রিন টি (পানিতে চা পাতা ভিজিয়ে) পান করতে পরামর্শ দিচ্ছেন, কারণ এতে সিদ্ধ পানির তুলনায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের মাত্রা বেশি থাকে।

* রসুন

নিয়মিত রসুন খেলে ঠান্ডা প্রতিরোধ হয় বলে প্রমাণিত, কারণ এতে ইমিউন বৃদ্ধির উপাদন অ্যালিসিন থাকে, বলেন রেজিস্টার্ড নার্স ডোনা কার্ডিলো। ঠান্ডা লাগলে বেশি করে রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা অরেঞ্জ-জুসের সঙ্গে রসুন কাঁচা খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

* ব্লুবেরি

কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পেয়েছেন যে, অন্য যেকোনো তাজা ফলের তুলনায় ব্লুবেরিতে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা আপনার ঠান্ডাকে পরাজিত করতে সাহায্য করে। আপনার ঠান্ডা লাগলে ব্লুবেরি খান অথবা কিছু ভিটামিন ডি পেতে এক বাটি সিরিয়াল বা দইয়ের ওপর ব্লুবেরি ছিটিয়ে খান।

* চা

মৌরি বীজের মতো প্রাকৃতিক এক্সপেক্টোরেন্ট ভিজিয়ে চা খেলে আপনার ঠান্ডা প্রশমিত হতে পারে। আমেরিকান ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি রেসিপি সুপারিশ করছে হেলথ ডটকম: এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মৌরি বীজের গুড়া মেশান- এতে স্বাদ আনার জন্য চিনি, রসুন, দারুচিনি, মধু অথবা পুদিনা যোগ করতে পারেন। দিনে তিনবার এই চা পান করুন। আপনি পুদিনা চা-ও পান করতে পারেন। ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, পুদিনা চা এক্সপেক্টোর‍্যান্ট হিসেবে কাজ করে, যা শ্লেষ্মাকে পাতলা করে এবং কফ দূর করতে সাহায্য করে।

* মাছ

 ঠান্ডা লাগলে তৈলাক্ত মাছ (যেমন- স্যালমন ও টুনা) খেতে সুপারিশ করছে, কারণ তাদের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ঠান্ডা প্রশমনে অবদান রাখতে পারে। এই উপাদান শরীরের প্রদাহ হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং আপনার ইমিউন সিস্টেমকে প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে- যার ফলে ইমিউন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট