জিয়াউর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকীতে ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দীন খোকনের শ্রদ্ধাঞ্জলী

প্রচ্ছদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুন:প্রবর্তনকারী, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ কালজয়ী দর্শনের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, সফল রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদৎবার্ষিকীতে আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। শহীদ জিয়ার অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।
তিনি বলেন, জাতির চরম দুঃসময়গুলোতে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। মহান মু্ক্তিযুদ্ধের বীরোচিত ঘোষণা, মুক্তিযোদ্ধে অসামান্য ভূমিকা এবং রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অনন্য কৃতিত্বের কথা আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। ৭১’ সালে ২৫শে মার্চ যখন সাধারন নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাকহানাদার বাহিনী গনহত্যা,ধর্ষন,নির্যাতন শুরু করে ঠিক সেই মুহুর্তে দিশেহারা বাঙালিদের রক্ষায় ২৬শে মার্চ মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের অভয়মন্ত্রে উজ্জীবিত করে, ফলশ্রুতিতে দেশের মানুষ মহান মুক্তিযোদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশক স্বাধীন করে।স্বাধীনতা পরবর্তী কিছু বছর পর কিছু দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের ষডযন্ত্রে দেশের মানুষের গনতন্ত্র যখন আবার দুর্যোগের মুখে পতিত হয়েছিল ঠিক তখনই দেশের মানুষের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দেশের সিপাহী-জনতার মিলিত শক্তির মিছিলে জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করেন। উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করেন। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রপ্তানীকারক দেশে পরিণত করেন। ব্যক্তিজীবনেও দুর্নীতি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণকে তিনি ঘৃণা করতেন। তাঁর অন্তর্গত স্বচ্ছতা তাঁকে দিয়েছে এক অনন্য ঈর্ষণীয় উচ্চতা। তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।

তিনি আরো বলেন এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারী শক্তি কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অশুভ চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে দেশবাসী হারায়। তবে চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে অবস্থান করেন। নিখাদ দেশপ্রেমিক এই মানুষটিকে কেউ কখনো তাঁর বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। তিনি সারাজীবন আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে গেছেন।

বর্তমান নির্বাচনগুলোতে যখন মানুষ সহজে ভোট দিতে পারছে না।দেশের মানুষের ভোটাধিকার যখন প্রতিনিয়ত হরন হচ্ছে। দেশের প্রধান দলগুলো যখন স্বাধীনভাবে গনতান্ত্রিক উপায়ে জনগনের অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিরোধের মুখে কোন কর্মসুচি ও ভুমিকা পালন করতে পারছে না ।মামলা হামলার শিকার ও নির্যাতিত হচ্ছে এমতাবস্থায় হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবারও বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদত বার্ষিকীতে এই মহান নেতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি এবং দেশের এই করোনার ভয়াল পরিস্হিতিতে দেশপরিচালনায় দেশবাসী শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়ার মত একজন বিচক্ষন রাস্ট্রনায়কের শুন্যতা অনুভব করছে বলে আমি মনে করি ।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন।
যুগ্নমহাসচিব
জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)