চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মৌসুমীর এক মুখে দুই কথা

বিনোদন

মৌসুমীর এক মুখে দুই কথা শোনা গেল। প্রথমে বললেন তিনি নির্বাচনে কোনো ইশতেহার দেবেন না। অথচ বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের ডেকে ঘোষণা করলেন একাধিক ইশতেহার। এর আগে বলেছিলেন তিনি ইশতেহারে দেবেন অথচ পরে পারবেন না সে কথা রাখতে, তারচেয়ে ইশতেহার না দেওয়াই ভালো।

অথচ আজ তিনি ৮ দফা ইশতেহার ঘোষোণা করলেন যেখানে শিল্পী সমিতি থেকে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের মতোও বিষয় উঠে এসেছে। ইঠে এসেছে শিল্পীদের দ্বারা কুটির শিল্প গড়ে তোলার বিষয়টিও।

আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের এ দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। প্রর্থীরা চূড়ান্ত নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছে। সমিতির সভাপতি পদে প্রথমবার নারী প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আছেন ঢাকাই সিনেমার প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী।

গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর এফডিসিতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর মুখোমুখি হন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এসময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে কী কী রয়েছে।
ইশতেহারের বিষয়টিকে নাকচ করে দিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘অনেককিছু চিন্তা করেছি কিন্তু আসলে ওটা নিয়ে আমি এখন ভাবছি না, ইশতেহারটা নিয়ে এখন আমি ভাবছি না। আমি ভাবছি ইলেকশনকে সামনে রেখে প্রতিদিন স্টেপ বাই স্টেপ এগিয়ে যেতে হবে। ইশতেহার আমি বললাম, এটা সেটা অনেক কিছু ইচ্ছা আমার আছে। কিন্তু ভোট দেয়ার পর সে আশা আমি রাখতে পারলাম না, কথা রাখতে পারলাম না, এই কথাগুলো থাকবে না যখন কথার দামও থাকবে না।’

ইশতেহারকে প্রলোভনের সাথে তুলনা করে মৌসুমী বলেন, ‘ সেটা আমি চাচ্ছি না সহসা কোনো বক্তব্যে প্রকাশ পায়, যেটার প্রলোভন দেখিয়ে আমি ভোট কালেকশন করতে চাচ্ছি না। আসলে আমি আপাতত এটুকুই বলতে চাই আমি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের কথাগুলো আজ উঠে এসেছে।’

১৬ অক্টোবরে সন্ধ্যায় এফডিসিতে মৌসুমীর বক্তব্যের ভিডিও

রাজধানীর একটি হোটেলে মৌসুমী যে ইশতেহার দিয়েছেন।

১. শিল্পীকে তার আত্মসম্মানের জায়গায় দেখতে চাই।

২. শিল্পী সমিতির অফিশিয়াল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা যাতে শিল্পী সমিতির সকল কার্যক্রম ও সম্মানিত সদস্যদের ডাটাবেজ ওয়ান ক্লিকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। ৩. শিল্পী সমিতির নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খােলা হবে।

৪. শিল্পী সমিতির থেকে ওয়েব সিরিজ তৈরি করা হবে। তা থেকে লাভের সম্পূর্ণ অংশ শিল্পী সমিতির তহবিলে প্রদান করা হবে। এর এই ওয়েব সিরিজে শিল্পীরা পর্যায়ক্রমে অনেকেই অভিনয় করবে। এবং অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিক পাবে।

৫. চলচ্চিত্রের বর্তমান দূর অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্য চলচ্চিত্রের সু-দিন ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের অর্থমন্ত্রনালয়ের এবং প্রযোজক পরিচালক সমিতির যে সমস্ত কার্যক্রম গ্রহন করছেন তাদের সাথে একাত্ততা ঘোষণা করে কাজ করবাে।

৬. শিল্পীদের সযােগিতায় প্রতিবছর একটি করে এক্সিভিশন আয়ােজন করা হবে। সেখানে তারকাদের স্বাক্ষর, ছবি সহ মগ বিভিন্ন সুভিনিয়র বিক্রি করা হবে। এ থেকে আয় শিল্পী সমিতি ফান্ডে জমা করা হবে।

৭. বয়স্ক ভাতা চালু করব। বিভিন্ন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিগত দাতাদের নিকট হতে ফান্ড কালেক্ট করে আলাদা একটি একাউন্ট করে বয়স্ক ভাতা পরিচালনা করা হবে।

৮. স্বল্প আয়ের শিল্পীদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য হস্ত শিল্প বা কুঠির শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে। যে সকল শিল্পীদের হাতে কাজ কম তারা ডেইলি ভিত্তিতে এখানে কাজ করবে। এখান থেকে আয়কৃত টাকা শিল্পী সমিতির একাউন্টে জমা দিয়ে শিল্পীদের কল্যানেই ব্যয় করা হবে ।

আরও পড়ুন