কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুস সালামের পদায়ন নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে তোলপাড়!

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার ঃ শিক্ষা-শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতরি পাদপীঠ কুমিল্লা প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে এ উপমহাদশেে সুপরচিতি।ঐতিহ্যবাহী এই কুমিল্লার আরেক নাম শিক্ষানগরী। এখানে ঐতিহ্যের স্মারকবাহী হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।

এই কলেজের প্রফেসর পর্যায়ের একাধিক শিক্ষক এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুস সালাম ১২বছর এতো অনিয়ম দুর্নীতি করেও কিভাবে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেলেন! এর পেছনে কি রহস্য রয়েছে?
বির্তকিত এই চেয়ারম্যান কুমিল্লা বোর্ডে বিভিন্ন সময়ে নানা বির্তকের সৃষ্টি করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডে চেয়ারম্যান পদে যোগদান করেই জড়িয়ে পড়েন নিয়োগ বাণিজ্যে। ইতিমধ্যে কোন কোন পদে লোক নিয়োগ করা হবে তা চুড়ান্ত করা হয়েছে। বোর্ডের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের ভাষ্যমতে, যে সকল পদে কর্মী নিয়োগের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে এই সকল পদে আদৌও কোন কর্মীর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

যেখানে সরকারি নীতিমালায় রয়েছে ৩বছরের বেশি প্রেষণে থাকতে পারবেনা। সেখানে ১২বছর বিভিন্ন পদে কিভাবে রয়েছেন তা আদৌও রহস্যেও বেড়াজালে বন্ধী।

বোর্ডের সাবেক কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সচিব বলেন, বোর্ডে এখন লুটতরাজ চলছে। আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে হরিলুট। সালামগংদের অপসরন না হলে এইসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে না। অন্যথায় বোর্ড খুব শীঘ্রই দেওলিয়া হয়ে যাবে। আমাদের সময় এই সকল অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটতরাজ ছিলো না।

প্রফেসর আব্দুস ছালাম নিজের এবং কর্মকর্তা/কর্মচারীতের ভোগ বিলাস, আর্থিক সুবিধা ভোগ নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকেন। পরীক্ষায় পাঠদানসহ অন্যান্য বিষয় তার কোন আগ্রহ নেই। শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই।

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলহোতা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে আদেশ লঙ্ঘন করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন পদে বিগত প্রায় ১২বছর একটানা প্রেষণে নিয়োজিত আছেন তিনি। ২০১৪ সালে সচিব হিসেবে পদায়ন পেয়ে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে ১ কোটি ৯১লক্ষ টাকা ১৪ বছরের বকেয়া বিল (২০০০-২০১৪) গ্রহণ করেন। ঐ সময়ে তিনি বোর্ডের সচিব ছিলেন না। তিনি বকেয়া বিল থেকে ২০% নগদ টাকা চাঁদা হিসেবে সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের থেকে গ্রহন করে প্রায় ৪০লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উক্ত বকেয়া বিলের তাহাদের হিস্যা অনুযায়ী প্রাপ্ত পাওয়ার জন্য বার বার আবেদন করলেও উক্ত পদে তিনি বহাল থাকায় এই ব্যাপারে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা যাচ্ছে না। ২০১৫ সালে আগষ্ট মাসে মাউশির মহাপরিচালক ড. ওয়াহিজ্জামান অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রাপ্য টাকার বিষয়ে তদন্ত করে একখানা প্রতিবেদন দেন। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, ঐ বিপোর্টে যাহাদের টাকা প্রাপ্য ছিলো না তাহাদের টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য বলা আছে। প্রফেসর আব্দুস ছালাম সচিব পদে বহাল থাকায় এই বিষয়ে কোন কার্যকরি ভূমিকা পালন করা হয়নি। জানা গেছে, উক্ত রিপোর্টটি তিনি গায়েব করে ফেলেছেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে এই ব্যাপারে মাউশি থেকে আরোও একটি তদন্ত কমিটি অবসরপ্রাপ্তদের প্রাপ্য বিলের বিষয় তদন্ত করেন। এই কমিটির তদন্ত রিপোর্টও প্রফেসর আব্দুস ছালামের কারনে ভূমেরান।

সর্বশেষ, দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশে কুমিল্লা কার্যালয় থেকে উপরোক্ত বিষয়টি তদন্ত চলছে। উক্ত তদন্তও প্রফেসর আব্দুস ছালাম বহাল থাকায় সুষ্ঠ ভাবে সম্পাদন হচ্ছে না
এই বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় বহু নিউজ ছাপা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারনে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। প্রফেসর আব্দুস ছালাম কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) পদে একাধিক বার পদায়ন হয়েছেন। এগুলো সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কতিপয় কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারনে। প্রফেসর আব্দুস ছালাম বোর্ডের বেচা-কেনা, টেন্ডার, মেরামত ও সংস্কার সব নিজেরই নিয়ন্ত্রন রেখে করেন। এখান থেকে বড় অংকের মাসোয়ারা তিনি গ্রহন করেন। তার ব্যক্তিগত একাউন্ট এবং ব্যক্তিগত সম্পদ যাচাই করলে দেখা যাবে তিনি এগুলো কোন সময়ে গ্রহন করেন।

তিনি তথ্য গোপন করে একটি বেসরকারি কলেজ (কেরানিগঞ্জ ইস্পাহানি কলেজ) থেকে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির ১০% কোটায় সরাসরি সহযোগী অধ্যাপক পদে শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেন। তার ব্যক্তিগত নথি যাচাই করলে সকল রহস্য প্রকাশ পাবে। যা নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে তোলপাড়!
তিনি অডিট দফতরের যাবতীয় কাজ নিজেই সম্পাদান করেন। অডিটের লোক আসলে তাদের মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে দায়সারা একখানা রিপোর্ট দিয়ে তড়িগড়ি করে চলে যান। সেখান থেকে তিনি কর্মচারীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের ভাগ গ্রহন করেন।
সকলকে সে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে জিম্মি করে ফেলেন। এসব কিছুর নৈপথ্যে তার দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকা।
আভ্যন্তরীণ অডিট মিমাংসার নামে তিনি কৌশলে বোর্ডের বিভিন্ন খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। যার ফলে অডিট টিম আসলে তিনি ম্যানেজ হয়ে যান। তাই সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অডিট সম্পাদান হয় না। বোর্ডে একজন এজি’র হিসাব রক্ষক অফিসার থাকলেও তার কিছুই করার থাকেনা। তিনি নিজেও ম্যানেজ হয়ে রয়েছেন।
তাই অভিজ্ঞমহল মনে করেন, তার প্রেষন প্রত্যাহার কওে তার স্খলে নতুন উদ্যমী ও সৎ লোক পদায়ন করলে কুমিল্লা বোর্ডে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।