কারা হেফাজতে এডভোকেট পলাশকে পুড়িয়ে হত্যার সুস্ঠু তদন্ত চান সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক

আইন আদালত

কারা হেফাজতে থাকা অস্থায় আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কেপরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ করেছেনসুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টারএএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনেআয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মা মিরা রানি রায় তার ছেলে পলাশকে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন এবং অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর খবর না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় পলাশের মা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। মৃত্যুর আগে পলাশ তার মায়ের কাছে সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগকরে গেছেন। তাই উক্ত হত্যার অভিযোগে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি এবংঘটনার সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের যোগ সাজস আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু, মহাসচিব হেমায়েত উদ্দিন বাদশা। ন্যশনাল ইয়ুথ ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম মনির প্রমুখ।

এর আগে গত ২৫ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তার বিরুদ্ধে কোহিনুর কেমিক্যালকোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের করা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেনপলাশ কুমার রায়। পরে সেখান থেকে উঠে তারা জেলা শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কেএসে মানববন্ধন শুরু করেন।

সেদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব রানা পলাশের বিরুদ্ধে সদরথানায় মামলা করেন। ওই দিনই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনজীবী পলাশকে গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে ঢাকাপাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ কারাগার হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে সেঅগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌঁড়ে বের হয়। এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে এবং শরীরের আগুন নেভায়।আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসারজন্য পরদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে গত৩০ এপ্রিল দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।