কারও হাত-পা নেই কারও পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে

জাতীয়

‘কারও হাত নেই, কারও পা নেই, কারও নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। কারও চেহারা ঝলছে গেছে। ছোপ ছোপ কালচে তাজা রক্ত রাস্তায় গড়াচ্ছে। আনুমানিক ৬-১৪ বছর বয়সী ১০-১২ জন ক্ষুদে শিশু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছিল। উফ! বীভৎস ও মর্মান্তিক সেই দৃশ্য দেখে বুক আঁতকে ওঠে।’

জরুরি সেবা ৯৯৯ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েই ঢাকা মহানগর অ্যামুলেন্স অ্যাসোসিয়েশনের যে কর্মকর্তা রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে ছুটে গিয়েছিলেন, সেই প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা ঠিক এভাবেই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ঘটনাস্থলের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।

বেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আজ (বুধবার) বিকেলে রাজধানীর রূপনগরে তিন শিশু ও এক নারীসহ কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদেরকে ঢাকা ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Fire-mirpur

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, এক নারী ও তিন শিশুসহ চারজনকে মৃত অবস্থায় এই হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়। এ চারজনের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওযায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। যে দুজন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তারা বিপদমুক্ত।

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তথ্য প্রতিমন্তী ডা. মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। আহত ও নিহতদের পাশে দাঁড়াতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

Fire-mirpur

রূপনগরের ঘটনায় আহত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন এক মেয়ে শিশুর কাছে গণমাধ্যম কর্মীরা বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার চোখেমুখে আতঙ্ক ফুটে ওঠে। ফ্যালফ্যাল করে এদিক সেদিক তাকায়। তারপর জানায়, বেলুন কিনতে সে সেখানে গেলেও একটু দূরে ছিল। হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনে এবং বেশ কয়েকজন সমবয়সীর আর্ত চিৎকার শুনতে পায়। তার পায়ের আঙুলে ভীষণ ব্যথা করছে বলে সে কান্না জুড়ে দেয়।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিহত এক শিশুর খালা জানান, তার বোনের মেয়ে বাবার কাছে বেলুন কেনার বায়না ধরলে তার বাবা তাকে টাকা দিয়ে বেলুন কিনতে পাঠান। কিছুক্ষণ পরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে এসে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।