বিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাস

করোনা আপডেট

বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার পোষা বিড়ালের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। তবে মানুষের শরীর থেকে পোষা প্রাণীতে এ ধরনের সংক্রমণের ঘটনা বিরল। দ্য হাফিংটন পোস্ট এ তথ্য জানায়।

গত শুক্রবার ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস হেলথ সংবাদ সম্মেলনে ভাইরোলজিস্ট স্টিভেন ভ্যান গুচট বলেন, ‘সম্প্রতি ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ থেকে একটি বিড়ালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে। বিড়ালটি তার মালিকের কাছেই থাকত। বিড়ালটির সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেওয়ার এক সপ্তাহ আগে তার মালিকের করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায়।’

বিড়ালটির ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট আছে। গবেষকেরা বিড়ালটির মুখে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি দেখেছেন। গতকাল শনিবার নাগাদ বিড়াল ও তার মালিকের অবস্থা ভালো বলে জানানো হয়েছে।

বেলজিয়ামের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ স্টিভেন ভ্যান বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মানুষ থেকে প্রাণীর শরীরে সংক্রমণের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। তা ছাড়া প্রাণী থেকে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও খুব কম।’

একই কথা বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, দাভিসের প্রধান ভেটেরিনারি মেডিকেল কর্মকর্তা জেন সাইকেস। তাঁর মতে, বিড়াল ও কুকুর করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। তবে তা সচরাচর হয় না। আর প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়ানো সম্ভব কি না, সে ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।

এর আগে হংকংয়ে দুটি কুকুরের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। তবে তা পূর্ণ সংক্রমণ ছিল না। গবেষকেরা জানান, একটি কুকুরের নাকে করোনাভাইরাস ছিল।

বিশেষজ্ঞ সাইকেস বলেন, বিড়ালটির ক্ষেত্রে যে মাত্রায় করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে, আর যে উপসর্গ দেখা গেছে, তাতে পূর্ণ সংক্রমণ ঘটেছে বলে ধরা যায়। তবে বিড়ালটির শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

বিড়ালের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি খুব আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ, ২০০০ সালের দিকে সার্স ভাইরাসের শিকার হয়েছিল বিড়াল। তবে বিড়াল থেকে মানুষের সংক্রমণ ঘটার কোনো প্রমাণ নেই। বেলজিয়ামের গবেষকেরা বলছে, এ বিষয়ে তাঁদের আরও গবেষণা করতে হবে। যাঁরা পশুপাখি পালন করেন, তাঁদের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ও আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ হচ্ছে, যদি অসুস্থ বোধ করেন, তবে পশুপাখি অন্যদের পালতে দিন। যদি সম্ভব না হয়, তবে পোষা প্রাণীর কাছাকাছি আসার পরপরই হাত ধুয়ে ফেলুন। এ ছাড়া পোষা প্রাণীর খাবার পাত্র, খেলনা ও বিছানা পরিষ্কার রাখুন। এ সময় সর্বক্ষণ মাস্ক পরে থাকুন। কোনো প্রাণী নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাকে উপযুক্ত সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হবে। তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট