আন্তঃজেলা ট্রাক সমিতির দখলে ১২০ফিট রাস্তা

প্রচ্ছদ

নগরীর মিরপুর কালশী মোড় হতে লালমাটিয়া টেম্পু স্ট্যান্ডের ১২০ ফিট রাস্তা গত পাঁচ বছর যাবৎ খুঁজে পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। এবড়ো থেবড়ো আর খানা খন্দকে ভরা ১০ ফিট রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হয় এলকাবাসীর। ব্যস্ততম এই সড়কটি সওজ’র অধীনে ১২০ ফিট তৈরি করা হলেও মাত্র ১০ ফিট রাখা হয়েছে যাতায়তের জন্য। বাকি জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল ট্রাক স্ট্যান্ড। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই দখলবাজরা বড়ই দয়ালু তারা দয়া করে আমাদের চলাচলের জন্য এই ১০ ফিট রাস্তা রেখেছে সেটাই আমাদের বড় পাওয়া আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার উপর একটি পাকা ঘর তুলে তাতে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে আন্তঃজেলা ট্রাক সমিতির সাইনবোর্ড। ১২০ ফিটের ১১০ ফিট জুড়েই রয়েছে বিভিন্ন ট্রাক। বাকি ১০ ফিট রাস্তার চেহারা দেখে রিক্সাও যেতে ভয় পাই। যে আন্তঃজেলা ট্রাক সমিতির সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে সেই সমিতির বিষয় নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। জানা যায়, শুরু থেকেই একটি সিন্ডেকেট সভাপতি /সাধারণ সম্পাদক সেজে এককভাবে নিয়ন্ত্রন করছে এই স্ট্যান্ডটি। প্রতি মাসে এই ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ওঠে। ট্রাক স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রন করার অভিযোগ রয়েছে ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। কাউন্সিলর তার নিজেস্ব বাহিনী দিয়ে স্ট্যান্ডটির মাসোহারা নিশ্চিত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু বাংলাদেশের আলো’কে বলেন, কে আমার নাম বিক্রি করে স্ট্যান্ড চালায়, আমি তা জানিনা। আপনারা সঠিক বিষয়টি তদন্ত করুন। জনস্বার্থে লিখুন। যেখানে রোডের জন্য ২০ফুট জায়গা বরাদ্দ সেখানে আমি ১১০ফুট জায়গা রাস্তার জন্য বরাদ্দ এনেছি। এখন যদি কেউ এটাকে দখল করে স্ট্যান্ড বানায় তাহলে আমার কি করার আছে? সিটি কর্পোরেশনকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার পক্ষ থেকে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
জানা যায়, প্রতিটি ট্রাক এই সমিতির অধীনে থাকার জন্য ভর্তি ফি ৫-১০ হাজার টাকা এবং মাসিক ২-৪ হাজার টাকা করে দিতে হয়। বর্তমানে এই সমিতির অধীনে ৬’শ থেকে ৭’শ ট্রাক রয়েছে যা থেকে বছরে প্রায় কয়েক কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে উক্ত ট্রাক সমিতি। অথচ এই এলাকার ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাদের চলাচলের অন্যতম ব্যবহার যোগ্য রাস্তা এটি যা চলাচলের অযোগ্য বললেই চলে। ট্রাক স্ট্যান্ডটির ঠিক পিছনেই রয়েছে এই এলাকার বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ কালশী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা বলেন, প্রতিদিন স্কুল গেটের সামনে স্ট্যান্ডের ড্রাইভার হেলপাররা দাড়িয়ে অশ্লীল কথা বলে- বিভিন্ন ভাবে আমাদের উত্যক্ত করে। আমরা এ বিষয়ে মানববন্ধন করেও কোন ফলাফল পায়নি। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী নেতা বলেন, এলাকার কিছু নেতা আর ট্রাফিক বিভাগের মাসোহারা নিশ্চিত করে চলে এই স্ট্যান্ডটি। এলাকার সব নেতারাই তাদের মাসোহারা পায় বলে স্ট্যান্ডটি সরানোর কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছেনা।
কথিত ট্রাক সমিতির সাধারন সম্পাদক শাখাওয়াতের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নিয়ে নিয়ম মেনে আমরা এই স্ট্যান্ড পরিচালনা করছি।
নীরব সিটি কর্পোরেশন

গত পাঁচ বছর যাবৎ চলমান দখলবাজি করে আটকে রাখা এই ১১০ফিট রাস্তার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (অঞ্চল-২) জানেনা বলে জানালেও স্থানীয় ট্রাক ড্রাইভার সুজন বললেন, প্রতিমাসেই সিটি কর্পোরেশনের ২জন কালেকশনমেন আমাদের এই সমিতির অফিসে চা খেতে আসেন। ১২০ফিটের যে রাস্তাটি অবৈধভাবে ট্রাকস্ট্যান্ড করা হয়েছে তার কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোশেন (অঞ্চল-২) নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম সফিউল আজম বলেন, এই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমার উচ্ছেদ অভিযানে এই স্ট্যান্ডটি রয়েছে। আমরা সম্প্রতি এই বিষয়টি আলোচনা করেছি। ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু’কে অবগত করেছি কিন্তু তিনি মিটিংয়ে উপস্থিত হননি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, এটা শতভাগ অবৈধ একটি স্থাপনা। অনুমোদনের প্রশ্নই আসেনা।
সরজমিনে দেখা যায়, কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মানের কাজ চলমান থাকায় কালশী মোড় হইতে লালমাটিয়া টেম্পু স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তাটিতে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। সন্ধ্যার সময় রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ফলের আড়তের গাড়ি আসায় রাস্তারিট ৩ ফিট অংশও পাওয়া যায় না ভোর ৬ টা পর্যন্ত।