আজ কাতারে তৃতীয় ধাপে শর্তসাপেক্ষে খুলছে সেলুন, হোটেল,মসজিদ, শপিংমল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ

আমিনুল হক কাজল

কাতার প্রতিনিধি  :

চারটি ধাপে কাতার করোনার ভয়াবহতা থেকে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল কাতার সরকার। আগামী ১ আগস্ট এর তৃতীয় ধাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৩১ জুলাই ঈদ-উল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়াও নানা দিক বিবেচানায় আজ ২৮ তারিখ শুরু হলো এর তৃতীয় ধাপ। এ পর্যায়ে কাতার শর্তসাপেক্ষে খুলে দিচ্ছে সেলুন, রেস্তোরাঁ,মসজিদ, শপিংমল,বাজার, পাইকারি বাজার,ব্যয়ামাগার,আউটডোর সুইমিল পুল,পানির পার্ক,সামাজিক অনুষ্ঠানাদি,পার্ক, সমুদ্র সৈকত ইত্যাদি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের ওহান প্রদেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলেও খুব দ্রুতই তা বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রুপান্তরিত হয়। এর সর্বগ্রাসী থাবায় মধ্যপ্রাচ্যেরে দেশ কাতারও রেহাই পায় নি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরান থেকে বিশেষ বিমানে দেশে আনা ৩৬বছর বয়সী কাতারি নাগরিক করোনায় আক্রান্ত কাতারের প্রথম রোগী। এর পর ক্রমেই বেড়ে চলে আক্রান্তের সংখ্যা। ভয়াবহ এ মহামারীর লাগাম টেনে ধরতে কাতার সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে অধিক মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাতারি নাগরিক ও এখানের প্রবাসীরা আন্তরিকভাবে সরকারের সকল ইতিবাচক উদ্যোগকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে।
জনসংখ্যার বিবেচনায় গত কাল ২৭ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত করোনায় বিশ্বের সর্বাপেক্ষা আক্রান্ত দেশ। আর সৌদি আরবের পরে আরব বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত দেশ কাতার সর্বামোট আক্রান্ত ১০৯,৯৫৯৭ । মোট সুস্থ হয়েছে ১০৬৩২৮, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৫ জন। এই হিসাবে, বর্তমানে চিকিত্সাধীন রয়েছে ৩১০৪ জন। কাতারে মোট পরীক্ষাগুলি ছিল ৪,৭৭,১৯৪ যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৮৮৪৮৩৭ এর ১৬.৫৪%।
কাতারে করোনায় প্রথম মৃত্যুবরণ করেন সিলেটের অধিবাসী এক হিন্দু ভদ্রলোক। দূতাবাসের হিসেব অনুযায়ী করোনায় ২৯ প্রবাসী বাংলাদেশী মৃত্যুবরণে করেছে।
শর্তসাপেক্ষে আজ খুলে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
মসজিদ:
আজ ফজর নামাজের সময় খুলে দেওয়া হয়েছে কাতারের আরও ৩০০টি মসজিদ। এর আগে আরও দুইটি ধাপে আট শতাধিক মসজিদ খুলে দেয় কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি আগামী শুক্রবার খুলে দিবে আরও ২০০ মসজিদ। আগামী শুক্রবার ৪০১টি মসজিদ ও ঈদগাহে সকাল ৫:২৯টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদ-উল আযহার জামাত।
নামজে আসা মুসল্লিরা মসজিদে সর্বদা ১.৫ মিটার দূরত্বে বসবে। প্রত্যেকেই নিজনিজ জায়নামাজ, কোরআন ও মোবাইল ফোনে এহেতেরাজ এ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূল। ষাটোর্ধ্ব বয়সী , শিশু এবং যারা নানা দুরারোগ্যব্যাধিতে ভুগছেন তাদের মসজিদে না এসে বাসায় নামাজ পড়তে পরামর্শ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সেলুন:
প্রত্যেক সেলুনে তাদের মোট সক্ষমতার ৩০ শতাংশ লোক একই সময়ে বাসাতে পারবে। সেলুনের কর্মীরা মাস্ক, মুখে শিল্ড ও হাতে গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক কর্মচারিকে সেলুন খোলার আগে করোনা টেস্ট করতে হবে। শারিরীক দূরত্ব ও ভীর এড়াতে কাস্টমাররা পূর্ব থেকেই নাম লিখেয়ে রাখতে হবে।
রেস্তোরাঁ:
কিছু নির্ধারিত রেস্তোরাঁ শর্তসাপেক্ষে আজ থেকে খুলতে পারবে। প্রত্যেক রেস্তোরাঁ তাদের মোট সক্ষমতার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ লোক একই সময়ে বাসাতে পারবে। এসব রেস্তোরাঁ অবশ্যই কাতার ক্লিন প্রোগ্রাম থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এতে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলের দূরত্ব থাকতে দুই মিটার এবং প্রত্যেক টেবিলে চার জনের বেশি বসতে পারবে না। তবে একই পরিবারের সদস্য হলে ছয়জন বসতে পারবে এক টেবিলে। এ সময়ে শপিং মলের ভিতর খাবারের দোকান বন্ধ থাকবে।
এছাড়াও পার্ক, কর্নিশ,সমুদ্রসৈকত,সামাজিক অনুষ্ঠান,ব্যয়ামাগার, আউটডোর সুইমিংপুল,ওয়াটার পার্ক, শপিং মল, বাজার , পাইকারি বাজারগুলো সুনির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে খুলে দিল সরকার। এ ক্ষেত্রে কঠোর নজদারিতে থাকবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
সরকারের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ জনগণ। বিশেষ করে ঈদের জামাত পড়তে পারার অনন্দটা সবাই খুব আনন্দের সাথে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি সরকারি হাসপাতাল থেকে সর্বশেষ করোনা রোগী সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে। সেপ্টেম্বরে চতুর্থ ও সর্বশেষ ধাপে পদার্পণের মাধ্যমে কাতার সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে সবার ধারণা।