আকিক ও তূর পরিবহনের বেপরোয় প্রতিযোগিতায় দুই যুবকের মৃত্যু

আমার দেশ

প্রধান প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে সিরামিক রোড ও কালশী মোড়ে আকিক পরিবহন তূর পরিবহনের বেপরোয় প্রতিযোগিতায় গত সপ্তাহে আলাদা দুর্ঘটনায় দুই স্টাফ নিহত হয়েছে। একই কোম্পানীর বাস পাল্লাপাল্লি করেই এসব মুত্যুর কারণ বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজন ও যাত্রী সাধারণ। মিরপুর থেকে উত্তরা-বাড্ডা রোডে বে পরোয় গতি, আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং পাল্লাপাল্লি করাসহ যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা রোধ করা যাচ্ছে না এসব মিনিবাসগুলোর। আর এতে চরম আতংকে পতিত হচ্ছে ওই রোডে চলাচলকৃত যাত্রী সাধারণ। যেন এসব পরিবহন ড্রাইভার, মালিক ও কোম্পানীর কাছে বড় অসহায় সাধারণ মানুষ। আর তাই দিনের পর দিন নিরবভাবে বেড়ে চলছে প্রাণহানীর মতো মর্মান্তিক ঘটনাসহ নানাবিধ গুরুতর দুর্ঘটনা। সরেজমিনের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে মোঃ রিয়াজ খোন্দকার ওরফে উজ্জল (২৯) নামে গোপালগঞ্জের এক যুবক আকিক পরিবহন কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুহুল আমিন শিকদার কাজলের ঢাকা-মেট্টো-ব-১১-৭৬১২ নম্বরের একটি মিনিবাস মিরপুর-বাড্ডা রোডে কন্ট্রাক্টে ভাড়া চালাতেন। গত ১৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে আনসার ক্যাম্প হইতে যাত্রী নিয়ে বাড্ডার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার সময় পল্লবী থানাধীন সিরামিক রোডের বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে পৌছলে পেছন দিক থেকে আসা একই মালিকের আরেকটি মিনিবাস আকিক পরিবহন ঢাকা-মেট্টা-ব-১১-৭৬১১ নম্বরের বাস দ্রæত ও বে-পরোয়া গতিতে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। এসময় সামনে থাকা আকিক পরিবহনের ঢাকা-মেট্টো-ব-১১-৭৬১২ নম্বরের বাসের বাম পাশে স্ব-জোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রæত আগে চলে যায়। এসময় উক্ত বাসটি বিকট শব্দ ও ঝাকিতে গেইটে থাকা কন্ট্রাক্টর রিয়াজ খোন্দকার রাস্তার ওপরে পড়ে গিয়ে তার মাথার ডান পাশে, বুকের ডানপাশে, পিঠে, বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুল ভাঙ্গাসহ শরীররে বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয় বলে জানিয়েছেন নিহতের ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শিরা। নিহত রিয়াজের ভাই মোঃ ইউনুছ কোন্দকার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন যে, তার ভাই আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলে উক্ত বাসের ড্রাইভার আজম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা নিরিক্ষা করে তার ভাই রিয়াজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই ইউনুছ আরও জানায় যে, তার ভাই দুই বাসের চাপায় মৃত্যুর ঘটনাকে মালিক ও কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাসের ড্রাইভার আজমকে দিয়ে প্রচারে চেষ্টা চালান যে, কন্ট্রাক্টর রিয়াজ খোন্দকার স্ট্রোক করে মারা গেছেন। বিষয়টি পুলিশ অবহগত হয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে সুরত হাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এর মাঝেই সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানী ও মালিক রুহল আমিন শিকদার কাজল নিহতের পরিবার ও স্বজনদেরকে নামমাত্র কিছু অনুদান ও উপর মহলের চাপ দিয়ে ম্যানেজ করে নেন বলেও অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এক সূত্রমতে জানা গেছে এ মৃত্যুর ঘটনা মাত্র লাখ টাকার বিনিময় ধামাচাপা দিয়ে হাফ ছেড়ে বেচে যান কোম্পানী ও মালিক পক্ষ।
এর মাত্র দুদিন আগে, ১৪ অক্টোবর পল্লবীর কালশী মোড়ে আকিক পরিবহনের সুপারভাইজার লেদু মিয়া ওয়েবিল সই করে বাস থেকে নামার সময় পেছন থেকে জাবালে তূর নামে একটি মিনিবাস লেদু মিয়াকে চাপা মারে। এতে লেদু মিয়ার বাম সাইডের পাজর ভেঙ্গে যায়, এরপরেও তূর পরিবহন সুপারভাইজার লেদু মিয়ার পায়ের ওপর দিয়ে বাসটি চালিয়ে যান বেপরোয় গতিতে আগে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। এখানেও লেদু মিয়াকে চলে যেতে হলো নিরবেই। থানা পুলিশ অবগত হলে দ্রæত গতিতে নিহতের স্বজনদেরকে লোক সমাজের অদৃৃশ্য ওপর মহলে চাপ অব্যাহত রেখেই মালিক পক্ষ মিমাংশার জন্য তৎপর। জানা গেছে এ দুর্ঘটনায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকায় জীবনের মূল্য নির্ধারণ করে চলে যেতে হলো নিহতের স্বজনদের। জাবালে নূর নামের দুটি মিনিবাসের পাল্লাপাল্লিতে এয়ারপোর্ট রোডের কুর্মিটোলা শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজ এ্যান্ড স্কুলের এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সারাদেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে জাবালে নূর পরিবহনের লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই ঘাতক বাস জাবালে নূরের আদলেই এখন রোডে চলছে জাবালে তূর পরিবহন।
নিরবেই চলে যেতে হয় এই সেক্টরে খেটে খাওয়া শ্রমিক-কর্মচারী ও এ ধরণের দুর্ঘটনায় কবলিত সাধারন জনগণকে। জীবনের মূল্য ভুলে যেতে হয় মাত্র ১/২ লাখ টাকার বিনিময়। সাধারণ জনগণ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন- এসব রোডে চলাচলকৃত বাস ও বাসমালিকদের সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করছেন না বলেই আজকে মানুষের জীবন মূল্যহীন।