১০১ সড়কের ফুটপাত দখলে

বাংলাদেশ

নগরীর ১০১টি সড়কের ফুটপাত অবৈধ দখল চিহ্নিত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ মহানগরীর উত্তরার সড়ক ও জনপথ থেকে ফুটপাতের ওই সব এলাকার দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

প্রাথমিকভাবে উত্তরা এলাকাকে বেছে নিয়েছে সংস্থাটি। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকারও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা সত্যিকারার্থে নগরীকে বসবাস উপযোগী করতেই ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি।

প্রথমে আমরা উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করব, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্য এলাকায়ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করলাম- এ উদ্যোগকে সফল করতে নগরবাসীকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হবে না।

১৭ সেপ্টেম্বর গুলশান নগর ভবনে ডিএনসিসি এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ ডিএনসিসি আওতাভুক্ত এলাকার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করতে ডিএমপি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে।

অবৈধ দখলে ১০১ ফুটপাত : ডিএনসিসির উত্তরা জোনের ৩৯টি ফুটপাতে অবৈধ দখলদারিত্ব চলছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- সোনারগাঁও জনপদ, সেক্টর-৭ ও রোড ৩৫, রবীন্দ্র সরণি, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের পশ্চিম পার্শ্ব, জসিম উদ্দিন এভিনিউ, গাউসুল আজম এভিনিউ, খিলক্ষেত প্রধান সড়ক, সেক্টর ৭ ও রোড ২৭, ঈশা খাঁ এভিনিউ, আলাউল এভিনিউ, শাহজালাল এভিনিউ, সেক্টর ৬ ও রোড ১২, গরিবে নেওয়াজ এভিনিউ, বসুন্ধরা রোড (প্রগতি সরণি থেকে হার্ডকে স্কুল পর্যন্ত), বেড়িবাঁধ রোড-সেক্টর-৮, দক্ষিণ কুড়িল রোড, জোয়ার সাহারা আর্মি ট্রানজিট ক্যাম্প রোড, উত্তরা সেক্টর-৩ ও রোড-২ এবং উত্তরা সেক্টর-৯ ও রোড-১, সেক্টর-১১ ও রোড ২০, কুড়াতলী বাজার রোড, সেক্টর ১০ ও রানাভোলা রোড, কবি ফারুক সরণি (নিকুঞ্জ-২), লেকপাড় রোড ও সেক্টর-৭, সেক্টর-৭ ও রোড-২৮, সেক্টর-১০ ও রোড-১২/এ, সেক্টর-১২, কাঁচাবাজার রোড, খিলক্ষেত বেপারিপাড়া রোড, সেক্টর-৩ ও রোড-১৮, সেক্টর-৩ ও রোড-৭, খিলক্ষেত পোস্ট অফিস রোড, সেক্টর-১১ ও রোড ১০/বি, সেক্টর-৭ ও রোড-৩৪, সেক্টর-১১ ও রোড-১০, সেক্টর-১ ও রোড-৪, সেক্টর-৯ ও কাঁচাবাজার রোড, সেক্টর-১ ও রোড-৭ এবং শাহ মখদুম রোড।

ডিএনসিসির মিরপুর-২ জোনে ফুটপাতে ১২টি অবৈধ দখলযজ্ঞ রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- মিরপুর-১ শাহআলী মার্কেটের আশপাশের সড়ক, মিরপুর-১০ নম্বর মোড় সংলগ্ন এলাকা, মিরপুর-১ সিনেমা হল হতে চিড়িয়াখানা পর্যন্ত, মিরপুর-১০ সার্কেল হতে মিরপুর-১২, পুলিশ কনভেনশন হলের বিপরীত সড়ক ও ওজিএসবি হাসপাতাল সড়ক ও ফুটপাত, কালশী সড়কের উভয় পার্শ্বের ফুটপাত ও সেকশন-১১, মিরপুর সেকশন-১১ হতে আরামবাগ মেইন রোড এবং চলন্তিকা মোড় হতে মিল্কভিটা মোড় পর্যন্ত, মিরপুর সেকশন-১২ পল্লবী থানার আশপাশ এলাকার সড়ক, মিরপুর সেকশন-৬, এভিনিউ-৫ এবং রূপনগর প্রধান সড়ক, মিরপুর-১৪ ও আশপাশের সড়ক, মিরপুর শাহআলী মাজার হতে মিরপুর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ও আশপাশের প্রধান সড়ক এবং মিরপুর সেকশন-৬, ব্লক-সি ও রোড-১৮ বাজার হতে এভিনিউ-৪ পর্যন্ত।

ডিএনসিসির মহাখালী-গুলশান এলাকার জোনভুক্ত এলাকার মধ্যে সাতটি গুচ্ছ এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখলে চলে গেছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভাটারা থানা রোড, নতুনবাজার ফুটপাত, কুয়েত মসজিদ হতে সুতিখাল এবং বসুন্ধরা ফুটওভারব্রিজ হতে শাহজাদপুর বটতলা, গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেটের চারপাশের খালি জায়গা, গুলশান-২ কাঁচাপাকা মার্কেটের আশপাশের খালি জায়গা, বনানী কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশের এলাকা, মহাখালী টিবি গেট ও ওয়্যারলেস এলাকা, উত্তর বাড্ডা বাজারের সন্নিকটের আশপাশের এলাকা, হোসেন মার্কেট থেকে রামপুরা ব্রিজ এলাকা, ১৬/১ পূর্ব মেরুল সংলগ্ন অবৈধ ওভারহেড পর্যন্ত, গুদারাঘাট সংলগ্ন রাস্তার উপরে অবৈধ বাজার, রামপুরা সুপার মার্কেট সংলগ্ন অবৈধ বাজার, বেগুনবাড়ী ঝিল রেস্তোরাঁ হতে তেজগাঁও মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, শান্তি নিকেতন বটতলা হতে ২২৮/সি তেজগাঁও, বাংলামোটর থেকে মগবাজার চৌরাস্তা এবং মগবাজার চৌরাস্তা থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস পর্যন্ত এবং মগবাজার চৌরাস্তা হতে টঙ্গী ডাইভারশন রোড।

ডিএনসিসির মিরপুর টাউনহল এলাকার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ৭টি এলাকার সড়কের ফুটপাত অবৈধ দখলে চলে গেছে। সেসব এলাকার মধ্যে রয়েছে- মিরপুর রোড হতে মাজার রোড পর্যন্ত সড়কের উভয় পার্শ্বের খালি জায়গা, গাবতলী টার্মিনালের বাইপাস সড়ক, গাবতলী টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ অবৈধ কাঠামো, লালকুঠি বাজার সড়ক এলাকা, গৈদারটেক সড়কের সামনের অংশ, কল্যাণপুর ফুটওভার ব্রিজের উভয় পার্শ্বের ফুটপাত, দারুস সালাম সড়কের উভয় পার্শ্ব, মিরপুর-১০ হতে জনতা হাউজিং বাউন্ডারি রোড বাইলেনসহ, মিরপুর-১০ হতে তালতলা পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণির উভয় পার্শ্বের ফুটপাতের অবৈধ দোকান, বাউন্ডারি রোড ও স্বাধীনতা সরণির উভয় পার্শ্ব। ডিএনসিসির কাওরানবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন ৩৭টি সড়কের ফুটপাত অবৈধ দখলে চলে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *