বাঙ্গালীর পাঠশালা’র নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন

আমার দেশ শিক্ষাঙ্গন

দেশ ও সমাজ নিয়ে ভাবছেন তরুণরা। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তারা। দেশ ও দশের কল্যাণের বিষয়টি তাদের ভাবায়। সমাজের ভালো-মন্দ সবকিছু নিয়ে এখন সরব তারা। নিজস্ব বা দলগত উদ্যোগে তরুণরা এখন নানা সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করছেন। তেমনই একটি উদ্যোগ ‘বাঙ্গালীর পাঠশালা’। পথশিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এখন পাঠশালা’র মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬০ জন। রাজধানী মিরপুর, ভাষানটেক, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জ বাঙ্গারীর পাঠশালার চারটি স্থায়ী ক্যাম্পাস। এসব জায়গায় সপ্তাহে পাঁচদিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ক্লাস নেওয়া হয়। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়ানো হয়।

এছাড়া রাজধানীর আরো বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বাঙ্গালীর পাঠশালা’র অস্থায়ী ক্যাম্পাস। যেখানে চলে পথশিশুদের কাউন্সেলিং। স্বেচ্ছাসেবীরাই কাজগুলো করেন। বর্তমানে ৪০-৫০ জনের মতো স্বেচ্ছাসেবী বাঙ্গালীর পাঠশালার সাথে জড়িত। তাদের মাসিক চাঁদা থেকেই চলে স্কুলের সব কার্যক্রম, জানালেন সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক আকতার সাদ্দাম।

তিনি আরো বলেন, আমাদের স্কুলে আমরা নিজেরাই নিয়মিত পাঠদান করাই। প্রথমে আমরা রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি এলাকা, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ও মার্কেটে গিয়ে পথশিশুদের কাউন্সেলিং করাই। ওদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করি। ওদের ইচ্ছার কথা শুনি এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝাই। তারপর ওরা যখন পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখায়, তখন আমরা আমাদের স্কুলে নিয়ে আসি।

শুধু পড়াশোনাই নয়, পথশিশুদের নিয়ে বছরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে বাঙ্গালীর পাঠশালা। আয়োজন করা হয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে পথশিশুরা খেলাধুলা এবং নাচ-গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে শীতকালে আয়োজন করা হয় শীত ও পিঠা উত্সব। শীত উত্সবে শিশুদের মধ্যে গরম পোশাক বিতরণ করা হয় এবং পিঠা উত্সবে পিঠা খাওয়ানো হয়। এছাড়া বছরে দুটি ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ঈদ উত্সব। তখন শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় আনন্দ উত্সব। এ উৎসবে শিশুদের বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদনমূলক স্থান ভ্রমণ করানো হয়।

আকতার সাদ্দাম বলেন, শিক্ষামূলক বিনোদনের মাধ্যমে এসব শিশুদের মানসিক পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি। কারণ এসব শিশু ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝে না। তারা দৈনন্দিন নানা অপরাধের সাথে মিশে ভালোকে ভুলে যায়। এজন্য আমরা তাদের মানসিক উন্নয়নের জন্য প্রজেক্টরে নানা বিনোদন ও শিক্ষামূলক ভিডিও চিত্র দেখাই।

এই স্বেচ্ছাসেবী আরো বলেন, পথশিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এমন অনেক শিশু পেয়েছি যারা পরিবার সাথে রাগ করে পালিয়ে এসে রাজধানীর বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাস স্টেশন ও বস্তিতে স্থান নেয়। এসব শিশুর পরিবারের খোঁজ পেলে আমরা অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করি।

চার বছর ধরে বাঙ্গালীর পাঠশালা’র কার্যক্রম চলার কারণে রাজধানীতে পথশিশুদের শিক্ষার হার বাড়ছে আকতার সাদ্দাম বলেন, আগে রেলস্টেশন, বাসস্টেশন বা মার্কেটে যত পথশিশু পেতাম, এখন তাদের সংখ্যা অনেকাংশে কমে আসছে। বাঙ্গালীর পাঠশালার কার্যক্রম এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখছে বলে আমাদের বিশ্বাস।
উল্লেখ্য যে, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কর্মসূচি চালাচ্ছে ‘বাঙ্গালীর পাঠশালা’। ভবন ভেঙ্গে পড়ায় বর্তমানে খোলা আকাশে নিচেই তারা পাঠদান কর্মসূচি চালাচ্ছে। এতে করে রোদে শুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে তারা পড়াশুনা করতে কষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এই বিষয়ে বাঙ্গালীর পাঠশালা’র সমন্বয়ক আকতার সাদ্দাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আর্থিক সংকটের জন্য নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। তবে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। ফান্ডের ব্যবসা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই ঘর সম্পূর্ণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *