জাতীয় পার্টি কুমিল্লা (দঃ) জেলার সাধারন সম্পাদক এইচ.এন এম শফিকুর রহমানের পদত্যাগ

প্রচ্ছদ

কুমিল্লা (দ.) জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এইচ.এন এম শফিকুর রহমান কুমিল্লার সকল পদ/পদবী থেকে অব্যাহতি চেয়ে পার্টির চেয়ারম্যান বরাবর একটি পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই ব্যাপাওে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন। এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি।
পদত্যাগপত্রে এইচ.এন এম শফিকুর যে বিষয় গুলো উল্লেখ করেন তা হুবহু তুলে ধরা হলোঃ
যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালাবাসা প্রদর্শন পূর্বক আপনার সমীপে এই মর্মে আরজ পেশ করছি যে, আমি ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদানের পর পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হোসাইন মুহম্মদ এরশাদ আমাকে দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো পদে পদায়ন করে সম্মানিত করেছেন। সাথে সাথে কুমিল্লা (দঃ) জেলার সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। পরবর্তীতে দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে পদোন্নতি দিয়ে আমাকে চিরদিনের জন্য তাঁর ¯েœহপাশে আবদ্ধ করেছেন। এ জন্য আমি তাঁর প্রতি চির কৃতজ্ঞ। তিনি বর্তমানে মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেছেন, তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন সে কামনা ও দোয়া করছি। আমি কুমিল্লা জেলার সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পরই জেলার সংগঠনকে গোছানো ও সূসংগঠিত করার জন্য সর্ব শক্তি নিয়োগ করি। আমার যোগদানের অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহোদয় আক্ষেপ করে বলেছিলেন “আমি কুমিল্লাতে প্রধানমন্ত্রীসহ অনেককে মন্ত্রী, হুইপ ও এম.পি বানিয়েছিলাম, কুমিল্লার ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলাম, কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার পর বিগত ২৪ বৎসর আমি কুমিল্লা যেতে পারিনি, তাই আমি কুমিল্লায় যেতে চাই”। তাঁর আহŸানে সাড়া দিয়ে আমি কোটি কোটি টাকা খরচ করে তাঁকে কুমিল্লায় নিয়ে গিয়েছিলাম ও স্বরনাতীতকালের বিশাল জনসভার আয়োজন করেছিলাম। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী, তিস্তা, বড়াইমূখ ও ফেনী নদী অভিমূখে লংমার্চ্চ বাস্তবায়ন করার জন্য কুমিল্লা জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিশাল বহর নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ফেনীর লং মার্চ্চ ছিল আমার রাজনৈতিক জীবনের বিশাল টার্নিং পয়েন্ট। ঐ দিন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফেনী পর্যন্ত শতাধিক সূশোভিত তোড়ন ও মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় এর ছবি সম্মলিত গেঞ্জি, ক্যাপ পড়া লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহনে সেদিন আমার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও শক্তির মনে হৃদকম্পন সৃষ্টি করেছিল।

মহোদয়-
আপনার নিশ্চয়ই স্বরণ আছে সেই ফেনীর লং মার্চ্চের শো-ডাউনের দিন থেকেই আমার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও গোষ্টি এবং আমাদের নিজ দলীয় প্রতিহিংসাপরায়ন কতিপয় ব্যাক্তির চতুর্মূখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ঐ দিনই আমার তোড়ন এবং ব্যাসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অফিস একযোগে অগ্নি-সংযোগ করে। এর পরবর্তীতে আমাদের জেলা ও থানা পর্যায়ের সকল কর্মসূচীতে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়। আমাকে গুম ও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। মরহুম কাজী জাফর আহম্মদ সাহেবের মাধ্যমে আমাকে দল থেকে ও কুমিল্লার পদবী ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানাবিদ ষড়যন্ত্র করা হয়। কিন্তু জেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ভালবাসা ও সার্বিক সহযোগিতায় ঐসব ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকে কুমিল্লা থেকে বিতাড়িত করতে ব্যার্থ হয়। এক পর্যায়ে তারা আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের সাথে একজোট হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংশ করে আমাকে নিঃশেষ করার মহা প্রলয়ংকারী ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় একযোগে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আমার বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনক প্রচারনা শুরু করে। প্রশাসনের বিভিন্ন এজেন্সীকে ব্যাবহার করে আমাকে হয়রানী শুরু করে। একপর্যায়ে সমবায় আইন সংশোধন করে একযোগে ২০১২-২০১৩ সালের সারা দেশের হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী সমবায়ী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে। ঐ ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ৫০ লক্ষ সমবায়কর্মী বেকার হয়। লক্ষাধিক সমবায় উদ্যোক্তা সর্বস্বহারা হয়ে মামলা হামলায় পর্যুদস্ত হয়ে অনেকে জেল খানায়, অনেকে আত্বগোপনে আবার অনেকেই দেশ ত্যাগ করে নির্বাসনে দিনাতিপাত করছে। সরকারী হিসাবে প্রায় ৫ কোটি আমানতকারী সদস্য আমানত হারিয়ে নিঃস্ব ও সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এখানে আমার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্থ সদস্য সংখ্যা ২০-২৫ হাজার মাত্র।

মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়-
২০১২-২০১৩ সালের সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রীয় দূর্যোগের কবলে পড়ে হাজার হাজার সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা যেখানে আত্বগোপনে, নির্বাসনে অথবা অন্ধকার কারা প্রকোষ্টে, সেখানে আমি অত্যন্ত দূঃসাহসিকতার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক, দূদক, সি.আই.ডি, এন.এস.আই, ডি.জি.এফ.আই, সমবায় অধিদপ্তরসহ সরকারী সকল তদন্তকারী সংস্থার নিকট প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাব দিয়ে প্রমান করেছি, আমার কোন অপরাধ ছিলনা। আমি বা আমার প্রতিষ্ঠান জনগণের কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি বা করেনি। মানিলন্ডারিং করেনি। বরং বিভিন্ন এম.এল.এম কোম্পানীর জালিয়াতি ও প্রতারনা বন্ধ করতে গিয়ে আইন সংশোধনের মতো একটি ভূল সিদ্ধান্তের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির শিকার হয়েই আমি ও আমার জনকল্যান মূলক প্রতিষ্ঠান আই.সি.এল ধ্বংস হয়। বিগত ৬ বৎসর যাবৎ ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়ার পর অবশিষ্ঠ যে সম্পদ আছে তা দিয়ে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনার আলোকে আমানতকারীদের আমানত সমন্বয় করে যাচ্ছি। আপনি জানলে খুশি হবেন যে এ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৮০% দায় পরিশোধ করেছি যা বাংলাদেশের সমবায় ইতিহাসে এক প্রামানিক দলিল হিসাবে যুগ যুগ ধরে চিহিৃত হয়ে থাকবে, ইনশা-আল্লাহ। ২০১৩-২০১৪ সালের দিকে মরহুম কাজী জাফর আহম্মদ দল ছেড়ে নূতন দল গঠন করার পর আমাকে আহবায়ক করে কুমিল্লা (দঃ) জেলার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময় আমার আর্থিক দৈন্যদশা ও ব্যাবসায়িক পঙ্গুঁদশার মধ্যেও মাননীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রদত্ত দায়িত্ব সাদরে গ্রহণ করি। শুরু করি ধ্বংশপ্রায় দলীয় কাঠামো পূর্নগঠনের কাজ। একদিকে আমার ধ্বংশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকার বোঝা অন্য দিকে প্রদত্ত দলীয় দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা ও সামর্থ্য না থাকলেও আমি আল্লাহর উপর ভরসা ও আপনাদের ¯েœহ, ভালবাসা এবং কুমিল্লার সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় এ গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম, শুরু করলাম হাঁটি হাঁিট পথচলা। কিন্তু পরক্ষনে লক্ষ্য করলাম আমার সেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাদের দলীয় কতিপয় কেন্দ্রীয় নেতার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রচ্ছন্ন মদদে শুরু করল আমার বিরুদ্বে সর্বগ্রাসী অভিযান।
ঐ ষড়যন্ত্রকারীরা দলীয় এম.পি (সাবেক) জনাব নুরুল ইসলাম মিলনকে আমার প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়ে শুরু করে একের পর এক ন্যাক্কার জনক কর্মকান্ড। এম.পির পদবী ব্যাবহার করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, এম.পিদের নির্দেশনায় প্রশাসনকে দিয়ে আমাকে কুমিল্লায় প্রকাশ্যে যাতায়াতে বাধা দান করতে থাকে। আমার প্রতিষ্ঠানের কুমিল্লার সমন্বয় র্কাযক্রমে বাধা দান করতে থাকে । এখনও কুমিল্লার আমার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ (দুইশত কোটি) কোটি টাকার সম্পদ যা গ্রাস করার হীন উদ্দেশ্যে উন্নয়ন, বেচা বিক্রিতে বাধা দান করছে। অনেক সম্পত্তি বে-দখল করে অবৈধ দখলদারিত্ব ও দখল বাণিজ্য অব্যহত রেখেছে ।
অপরদিক আমি কুমিল্লা যেতে পারিনা এ ঠুনকো অযুহাত দাড়ঁ করিয়ে আমাকে দলীয় ভাবে কুমিল্লা থেকে বিতাড়নের অভিযান শুরু করে। আমি কুমিল্লায় যেতে পারিনা এ অযুহাত দেখিয়ে সম্মেলন প্রস্ততি কমিটি নামে একটি চিরকুট লিখে নিয়ে জনাব মিলন সাহেব কুমিল্লার মিশন শুরু করে। দলীয় হাইকমান্ডের কতিপয় ব্যাক্তির প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় কুমিল্লা থেকে আমাকে বিতাড়নের হাজারো চেষ্টা করেও সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের প্রতিরোধের মূখে বার বার ব্যার্থ হয় ।
অবশেষে মাননীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহোদয়ের হস্তক্ষেপ ও নির্দেশে জনাব মিলন সাহেব কে সভাপতি ও আমাকে সেক্রেটারী করে সম্মেলনের মাধ্যমে কুমিল্লা দক্ষিন জেলা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু র্দূভাগ্য জনক হলেও সত্য-কমিটি গঠনের র্দীঘ ৪/৫ বৎসর অতিক্রান্ত হলেও কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল চিশতীর অযাচিত হস্তক্ষেপের কারনে এবং মিলন সাহেবের ষরযন্ত্রের কারনে সাংগঠনিক কার্য্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। যদিও কুমিল্লার সাবেক ও বর্তমান সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে এবং সভাপতি ছাড়া জেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে আমি সকল উপজেলা, পৌরসভা, মহানগর ও সকল অঙ্গ সঙ্গঠনের কমিটি করে কোন রকম দলীয় র্কাযক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়-
গত ৪/৫ বৎসর যাবৎ আমি সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সকল দিবস স্থানীয় ও দলীয় কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচী সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। আমার শ্রম, মেধা, যোগ্যতা, অর্থ সব দিয়ে আমি দলীয় নেতা-কর্মীদের আগলিয়ে রেখেছি। কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিমধ্যে দলীয় অনেক কর্মসূচীতে কুমিল্লায় গিয়েছেন এবং নিশ্চয়ই আপনাদেরকে অবগত করেছেন যে আমি প্রকাশ্যে যেতে না পারলেও আমার অনুপস্থিতিতে দলীয় কোন কর্মসূচী থেমে থাকেনি। অত্যন্ত আড়ম্বর পরিবেশেই সকল কর্মসূচী আমার নেতৃত্বেই সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মহা-সমাবেশসহ সকল কর্মসূচীতে আমার নেতৃত্বেই বিশাল বহর ঢাকায় এসেছে। কুমিল্লায় স্থানীয় সকল নির্বাচনে আমার নেতৃত্বে নেতা কর্মীরা অংশ গ্রহণ করেছে। কুমিল্লায় অনেক বড় বড় ব্যাবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকে আমি দলে যোগদান করিয়েছি, ওবায়দুল কবির মোহন, ছালামত আলী খান বাচ্চু, লাকসামের সাবেক এম.পি জনাব এ.টি.এম আলমগীর সাহেবকে দলে যোগদান করিয়েছি। বুড়িচং, ব্রা²ন পাড়ার বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী জনাব তাজুল ইসলামকে যোগদান করিয়েছি। বি.এন.পি নেতা জনাব হুমায়ুন মুন্সীকে যোগদান করিয়েছি। গত ৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি বর্তমান জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব এয়ার আহম্মদ সেলিম’কে পূনরায় দলে যোগদান করিয়েছি। যোগদান অনুষ্ঠানে আমার নেতৃত্বে প্রায় সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করে। আরো প্রতিটি সংসদীয় আসনেই অনেক রাজনীতিক ও ব্যাবসায়ীকে যোগদানের প্রস্তুতি চলছে। যুব-সংহতি, ছাত্র সমাজ, মহিলা পার্টি, শ্রমিক পার্টি, ওলামা পার্টি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কমিটি হয়েছে।
এককথায় জনাব মিলন সাহেবের অসহযোগিতা ও কেন্দ্রীয় কতিপয় নেতার ষড়যন্ত্র সত্বেও দলীয় ও সকল অংগ সংগঠনের সর্বস্থরের নেতা-কর্মীরা আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকবার সকলে সম্মলিতভাবে ঢাকায় এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের সার্বিক অবস্থা অবহিত করা হয়েছে। সকলের দীর্ঘদিনের দাবী হচ্ছে কমিটি পূর্নগঠন করে দলকে সূসংগঠিত করা এবং কেন্দ্রীয় যেসব নেতার অযাচিত হস্তক্ষেপ দলীয় কার্য্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে তা বন্ধ করার।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য কুমিল্লা (দঃ) জেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবী সত্বেও ঝুলন্ত কমিটি নিয়ে লক্কর ঝক্করভাবে দলীয় কার্য্যক্রম চলছে, ফলে নেতা কর্মীদের মাঝে হতাশা বাড়ছে। তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দলকে ধরে রাখতে গিয়ে আমি দিন দিন প্রতিহিংসা ও ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ে দগ্ধ হচ্ছি। এ অবস্থায় মহোদয়ের প্রতি আমার আকুল আবেদন এই যে, ক্রমাগত যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, সারাদেশে জাতীয় পার্টি সরকারের সহযোগী রাজনৈতিক দল হলেও কুমিল্লাতে তার ব্যাতিক্রম। আমার প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকার সম্পদ বে-দখল হয়ে যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী/এমপিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপে আমার প্রতিষ্ঠানের জমি জমা উন্নয়ন ও বেচা-বিক্রি করতে বাধার সৃষ্টি করে চলেছে। প্রতিষ্ঠানের পাওনা টাকা উদ্ধারে কোটি কোটি টাকার চেকের মামলার অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীনদের সহযোগিতায় আমার বিরুদ্ধে নানমূখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর এসবের পিছনে দলীয় হাইকমান্ডের কতিপয় ব্যাক্তির হাত রয়েছে বলে আমি মনে করছি। কারন আমার পূর্বের অবস্থায় উনাদের অনেক আবদার রক্ষা করেছি, অনেক টাকা পয়সা দিয়েছি, কিন্তুু বর্তমানে আমার আর্থিক দৈন্য-দশার কারণে তাদের বিভিন্ন আবদার রক্ষা করতে পারছি না বিধায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছেন বলে আমার ধারনা। তাই আমি চর্তুমূখী ষড়যন্ত মোকাবিলা করে আর কুলিয়ে উঠতে পারছিনা। এ প্রেক্ষাপটে আমি কুমিল্লাকে আমার জীবনের মরন ফাঁদ হিসাবে দেখছি বিধায় এ ফাঁদ ও ষড়যন্ত্র থেকে মুুক্তি পাওয়ার লক্ষে কুমিল্লার সেক্রেটারীর পদ থেকে এবং সর্বোপরি প্রাথমকি সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি।

মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়-
আমার বিপদ স›িদ্বক্ষনে মাননীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহোদয়সহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতা কর্মীদের স্নেহ, ভালবাসায় আমি অভিভূত, চেয়ারম্যান মহোদয়কে আমার পিতৃতুল্য আসনে আমি সমাসীন করেছি, বিভিন্ন দূর্যোগে তিনি আমার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের ক্রান্তিলগ্নে আপনার মতো একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে পার্টির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব প্রদান করে তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি মনে করি আপনার বলিষ্ট নেতৃত্বে দল আরো সুসংঘটিত হবে। মাননীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মহোদয়ের পর আমি দলের মধ্যে আপনাকে সবচাইতে বেশি শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি।

তাই আপনি আমার বাস্তব অবস্থা মুল্যায়ন করে আমাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারীসহ সাধারণ সদস্য পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে আপনার  স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করবেন এ প্রত্যাশা করি। তাছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে অন্য যে কোন দায়িত্ব প্রদান করবেন, সে দায়িত্ব যথাযথ পালনে সচেষ্ট থাকবো-ইনশাল্লাহ। আমাকে সব সময় আপনার ও দলের পাশে পাবেন, এ প্রত্যাশায়-